দীপাবলি ঘিরে ভারতে জমে উঠেছে অলঙ্কার কেনাবেচা, বিক্রি বাড়ার আশা ব্যবসায়ীদের

ভারতে জমে উঠেছে অলঙ্কার কেনাবেচা
বিদেশে এখন
0

উৎসবের মৌসুম চলছে ভারতে। দীপাবলির বর্ণাঢ্য আয়োজনের পাশাপাশি ধনতেরাস উদযাপনে কেনাকাটার হিড়িক পড়েছে অলঙ্কারের দোকানে। স্বর্ণ-রূপাসহ সব ধরনের মূল্যবান গহনা বিক্রি হচ্ছে বেশ। গেলো বছরের তুলনায় এ বছর ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বিক্রি বাড়বে বলে প্রত্যাশা অলঙ্কার-ব্যবসায়ীদের। অন্যদিকে, দূষণ নিয়ন্ত্রণ আর ক্রমবর্ধমান খরচের চাপে বাণিজ্যে মন্দার মধ্যেই তুমুল ব্যস্ততা আতশবাজির কারখানাগুলোতে।

একে দাম পড়তির দিকে, তার ওপর দীপাবলি। উৎসবের শুরুতেই ধনতেরাস, তাই অলঙ্কারের দোকানগুলোতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন ক্রেতারা। স্বর্ণ-রূপা, যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী কিনছেন।

এক ক্রেতা বলেন, ‘আজকের দিনকে শুভ মনে করা হয়। তাই স্বর্ণ কিনতে এসেছি। কালেকশন ভালো, ক্রেতাদের ভিড়ও বেশি। সব মিলিয়ে ভালো লাগছে।’

গেলো বছরের তুলনায় এ বছর ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বিক্রি বাড়বে বলে প্রত্যাশা অলঙ্কার-ব্যবসায়ীদের। এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘মার্কেটের পরিস্থিতি খুবই ভালো। আগেই অনেকে বুকিং করে গেছে। সে অনুযায়ী তাদের আসা-যাওয়া চলছে। সকাল ৮টায় দোকান খোলা হয়েছে, ১০টা থেকে ক্রেতাদের ভালোই ভিড় দেখা যাচ্ছে। আজকের এই শুভ দিনে পছন্দের জিনিস হাতে পেতেই আগেভাগে বুকিং দেয়া। সব মিলিয়ে ব্যবসার অবস্থা ভালো।’

অন্ধকার ভেদ করে আলোর জয়ের প্রতীক এ উৎসব। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, নতুন কিছু কেনার জন্য বছরের শুভ সময় এটি। এ উৎসব বয়ে আনে সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্য। তাই এলাকার দোকানপাট, বাজার থেকে শুরু অভিজাত বিপণিবিতান, অলিগলিতে উৎসবের আমেজ।

প্রদীপ, রঙিন আলোকসজ্জা, মিষ্টি, উপহারের কেনাকাটা কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশ সবখানে। দীপাবলির আলোয় ঘুচে যাবে মনের যত অন্ধকার; মাতৃশক্তির বন্দনায় ভারতের কোটি কোটি সনাতন ধর্মাবলম্বী। বাড়িতে বাড়িতে ঝলমলে আলো, সেজে উঠেছে মন্দিরগুলো।

আরও পড়ুন:

আতশবাজি ছাড়া দিপাবলী অসম্পূর্ণ অনেকের কাছে। তাই বছরের ব্যস্ততম সময় পার করেছেন ভারতের বাজি প্রস্তুতকারকরা। দীপাবলি সামনে রেখে চাহিদা অনুযায়ী আতশবাজি সরবরাহে শেষ মুহূর্তে কাজের চাপে নাভিশ্বাস শ্রমিকদের। কিন্তু দূষণ নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে নিজেদের জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় তারা।

শ্রমিকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমাদের গ্রামে অন্তত ৪০টি আতশবাজি কারখানা আছে। প্রতিটিতে কমপক্ষে ৪০০ শ্রমিক কাজ করে। বাড়িতে বসে আতশবাজির উপকরণ তৈরি করে সংসার চালায় দেড় থেকে ২ হাজার পরিবার। অন্তত ৮ হাজার মানুষ জীবিকার জন্য আতশবাজি শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। দূষণ বাধা হয়ে দাঁড়ালে তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে?’

কাঁচামালের বাড়তি দামের কারণেও অনিশ্চয়তা বাড়ছে আতশবাজি শিল্পে। এতে দুশ্চিন্তায় কারখানামালিকরা। তারা জানান, ইরান যুদ্ধের কারণে কাঁচামালের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। তাই বাজির দামও ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বাড়তি।

দূষণ সীমিতকরণে দীপাবলির রাতে দিল্লি ও আশপাশের এলাকাগুলোতে আতশবাজি তৈরি, বিক্রি ও পোড়ানোতে বিধিনিষেধ নিয়েছে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত।

এসএইচ