কাপাসিয়ায় ৫ খুন: ওসির কাছে লেখা চিরকুট ঘিরে রহস্যের জাল

ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে মরদেহ
এখন জনপদে
অপরাধ
0

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন সন্তানসহ একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। ঘরের ভেতরে পাওয়া পাঁচটি মরদেহের ওপর পাওয়া গেছে কম্পিউটারে টাইপ করা চিরকুট। চিরকুটগুলো ছিলো গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি বরাবর লেখা অভিযোগপত্র। সেই অভিযোগপত্র থানায় জমা দেয়া হয়েছে কি না বা দিলেও গ্রহণ করা হয়েছে কি না সে বিষয়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কালীগঞ্জ সার্কেল মো. আসাদুজ্জামান।

মরদেহের ওপর রাখা অভিযোগপত্রের সূত্রে জানা যায়, স্ত্রী শারমিন খানম স্বামীর উপার্জিত ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে বাবার বাড়িতে জমি কিনেছেন। এছাড়া তিনি খালাতো ভাই রাজুর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। জানাজানি হওয়ার পর দাম্পত্য সম্পর্কে ফাটল ধরে। ৫ মে স্ত্রী শারমিন খানম ও তার প্রেমিক রাজু আহমেদ স্বামী ফোরকানকে বেধড়ক মারধর করেন।

গতকাল (শুক্রবার, ৮ মে) রাতে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়ি থেকে প্রাইভেটকার চালক ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন (৩০), তাদের বড় মেয়ে মীম (১৫), মেঝো মেয়ে মারিয়া (৮), ছোট মেয়ে ফারিয়া (২) এবং শারমিনের ছোট ভাই রসুল মিয়ার (২২) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাদের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলের দৃশ্যটি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। তিন সন্তানের গলা কাটা মরদেহ ঘরের মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে ছিল। শারমিনের ভাই রসুলের মরদেহ ছিল বিছানার ওপর। অন্যদিকে, শারমিনের হাত-মুখ বাঁধা নিথর দেহ জানালার পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

আরও পড়ুন:

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে গত জানুয়ারি মাস থেকে সপরিবারে ভাড়া থাকতেন ফোরকান মিয়া। শুক্রবার রাতেও পরিবারের সবাইকে স্বাভাবিকভাবে দেখা গেছে। তবে শনিবার সকালে হঠাৎ পাঁচজনের গলা কাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা।

প্রতিবেশীরা বলছেন, ফোরকান ও তার স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ হতো। ওই বিরোধের জেরেই তিনি স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে হত্যা করে পালিয়ে যেতে পারেন।

কাপাসিয়া থানার ওসি শাহিনুর আলম বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে ফোরকান মিয়া নিজেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়েছেন। পালিয়ে যাওয়ার সময় তিনি স্বজনদের কাছে ফোন করে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।’

গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালিগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং অভিযুক্ত ফোরকান মিয়াকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক এরইমধ্যে অভিযানে নেমেছে।’

এসএস