বেনাপোল স্থলবন্দরে নানা অনিয়মের অভিযোগ; কাটছে না বন্দরের রাজস্ব ঘাটতি

বেনাপোল স্থলবন্দর
আমদানি-রপ্তানি
অর্থনীতি
0

দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে ভারতীয় পণ্য প্রবেশ ও খালাস হলেও অনেক পণ্য এন্ট্রি না করার অভিযোগ উঠেছে। এতে ব্যাপক পরিমাণে শুল্ক হরাচ্ছে কাস্টমস হাউসে। অন্যদিকে, কম শুল্কযুক্ত পণ্য ঘোষণা দিয়ে বেশি শুল্কের অন্য পণ্য আমদানির ঘটনাও ঘটছে অহরহ। এমন পরিস্থিতিতে পণ্য আমদানি ঠিক থাকলেও, নানা অনিয়মে বন্দরের রাজস্ব ঘাটতি কাটছে না।

ভারত বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ হয়ে থাকে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে। অবৈধ পণ্য প্রবেশ রোধে বন্দরের কার্গো ভেহিকেল টার্মিনালে স্থাপন করা হয়েছে অত্যাধুনিক স্ক্যানিং মেশিন। যা তদারকি করছেন বাংলাদেশ ফাইবার অ্যাসোসিয়েট। তারপরও রহস্যজনকভাবে ট্রাকে করে প্রবেশ করছে অবৈধ পণ্য।

গেলো ১৮ জানুয়ারি মিথ্যা ঘোষণায় ভারতীয় তিনটি ট্রাকে আমদানি হয় ৫৬ মেট্রিক টন মোটর পার্টস, যার মধ্যে ৩ টন পণ্যই ছিলো অতিরিক্ত। এই পণ্য চালানটিতে কাস্টমস অতিরিক্ত ২৮ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করে।

এর আগে, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর ৮৯১টি আইজিএম-এর বিপরীতে কোনো বৈধ বিল অব এন্ট্রি কাস্টমস সিস্টেমে পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে, গত নয় মাসে এনএসআই ও বিজিবির তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় ১৫ টি মিথ্যা ঘোষণার চালান আটক করেছে কাস্টমস। যেখানে ফাঁকি দেয়া হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকার শুল্ক ।

অভিযোগ রয়েছে, এতো কিছুর পরও অজানা কারণে নামে মাত্র তদন্ত করে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়া হয়। এতে বন্দরের নজরদারি ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন ব্যবসায়িরা।

আরও পড়ুন:

তারা মনে করেন, বিজিবিসহ কাস্টমস কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আটক হওয়ার পরও আশানুরূপ তদন্ত না হওয়ার ফলেই রাজস্ব ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। এছাড়া যারা অবৈধভাবে পণ্য আমদানি করছে আয় করছে এবং এতে বৈধ আমদানিকারকরা বাজারে কোনোভাবেই টিকতে পারবে না বলেও মনে করছেন তারা।

তবে এ ধরনের ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী কাস্টমস কমিশনার রাহাত হোসেন বলেন, ‘এরই মধ্যে মিথ্যা ঘোষণায় আটক যেসব কনসাইনমেন্ট ছিলো, সেগুলোর ব্যাপারে কাস্টমস আইন অনুসরণ করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এরক মিথ্যা ঘোষণার যেকোনো ধরনের পণ্যের ক্ষেত্রে আমরা সচেতন আছি।’

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, ‘আমরা সিসিটিভি ক্যামেরাসহ সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছি। যদি এর সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, সে যেই হোক, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

চলতি অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টমস রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। প্রথম নয় মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি দেখা গেছে।

এসএইচ