পুতিনের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, ফোনালাপে রুশ প্রেসিডেন্ট ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের বিষয়ে সতর্ক করে একে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি। যদিও ইরান যুদ্ধে রাশিয়ার কূটনৈতিক ভূমিকা বর্তমানে সীমিত, তবে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি—মস্কো এখনো তেহরানকে গোয়েন্দা তথ্য ও ড্রোন দিয়ে সহায়তা করে যাচ্ছে, যা ওই অঞ্চলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আঘাত হানতে ব্যবহৃত হচ্ছে।
পরবর্তীতে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের মধ্যে খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। আমি তাকে (পুতিন) দীর্ঘ সময় ধরে চিনি।’ ট্রাম্প জানান, পুতিন ইরানের ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়াম মজুত রাশিয়ায় সরিয়ে নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্টকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে বলেন।
ট্রাম্প আবারও দাবি করেন যে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছেন তিনি। যদিও মাঠের চিত্র ভিন্ন; দুই দেশ এখনো কোনো স্থায়ী মীমাংসা থেকে অনেক দূরে। পুতিন ডনবাসসহ দখলকৃত অঞ্চলগুলো ছাড় দেয়ার দাবিতে অনড়, যা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বারবার প্রত্যাখ্যান করে আসছেন।
ফোনালাপে পুতিন দাবি করেন, রুশ বাহিনী বর্তমানে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে এবং তারা ইউক্রেনীয়দের হটিয়ে দিচ্ছে। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ার অগ্রযাত্রা ধীর হয়ে গেছে এবং উভয় বাহিনীই ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্লান্তির শিকার। এর মধ্যেই ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলো প্রায় প্রতিদিন রাশিয়ার শিল্প ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাশিয়ার বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজও সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রেমলিন। গত দুই দশকের মধ্যে এই প্রথম কোনো সামরিক সরঞ্জাম ছাড়াই এই কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
ইউরি উশাকভ জানান, ট্রাম্পের প্রস্তাব অনুযায়ী আগামী বিজয় দিবস উপলক্ষে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে পুতিন তার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। তবে ইউক্রেন এ ধরনের প্রস্তাব নিয়ে সন্দিহান। তাদের মতে, রাশিয়া সাময়িক বিরতি ব্যবহার করে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার এবং বড় হামলার প্রস্তুতি নিতে পারে।
আলোচনার একপর্যায়ে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী পরাজিত হয়েছে এবং তারা তাদের সব জাহাজ ও বিমান হারিয়েছে।’ তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, ট্রাম্প সম্ভবত ইউক্রেন ও ইরানকে গুলিয়ে ফেলেছেন। কারণ এর আগে ইরান যুদ্ধে মার্কিন সাফল্যের দাবি করার সময় তিনি ঠিক একই ধরনের ভাষা ব্যবহার করেছিলেন।





