আজ (বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল) হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির দীর্ঘ শুনানিতে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের সঙ্গে উপস্থিত হন হেগসেথ। সেখানে ওয়াশিংটনের সমরকৌশল নিয়ে জেরার মুখে পড়েন তিনি। শুনানিতে হেগসেথ ১৫ লাখ কোটি ডলারের বিশাল সামরিক বাজেট অনুমোদনের অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে এই যুদ্ধ প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে কয়েকজন আইনপ্রণেতাকেই ‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
হেগসেথ বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট ও কিছু রিপাবলিকান সদস্যের বেপরোয়া, অকর্মণ্য ও পরাজয়বাদী কথাবার্তা।’ তবে শুনানির আগে জমা দেয়া লিখিত বক্তব্যে তার এই কড়া মন্তব্য ছিল না।
যুদ্ধের আর্থিক ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে। পেন্টাগনের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা জুলস হার্স্ট কমিটিকে জানান, এ পর্যন্ত আনুমানিক ব্যয় ২৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে এবং এই অঙ্ক আরও বাড়বে। এই ব্যয়ের বড় অংশই যাচ্ছে গোলাবারুদ, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধ চার থেকে ছয় সপ্তাহ স্থায়ী হওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী করলেও এর স্থায়িত্ব দুই মাস পেরিয়ে গেছে। হেগসেথ অবশ্য এই যুদ্ধকে আমেরিকানদের নিরাপত্তার জন্য ‘অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ভিয়েতনাম, ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের দীর্ঘ ও তিক্ত অভিজ্ঞতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রশাসন এই অভিযানের জন্য গর্বিত।’
শুনানি চলাকালে বাইরের করিডোরে বিক্ষোভকারীদের স্লোগান শোনা যাচ্ছিল। তারা হেগসেথ ও জেনারেল কেইনকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছিলেন। কড়া নিরাপত্তার কারণে সাধারণ মানুষের অনেকেরই শুনানিতে প্রবেশের সুযোগ মেলেনি।
এদিকে শুনানির দিনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি নিজের একটি বিতর্কিত ছবি পোস্ট করেছেন ট্রাম্প। সেখানে বিস্ফোরণের মধ্যে তাকে অস্ত্র হাতে দেখা যাচ্ছে। ছবির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘আর কোনো ভদ্রতা নয়’। একই সঙ্গে ইরানকে দ্রুত ‘বুদ্ধিমান’ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। অ্যাক্সিওস নিউজ ওয়েবসাইটকে ট্রাম্প বলেন, ‘একটি চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত তিনি ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ বহাল রাখতে প্রস্তুত। এটি যুদ্ধ আরও দীর্ঘ হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।’
শুনানিতে ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট জন গারামেন্ডি হেগসেথের ওপর চড়াও হন। তিনি এই যুদ্ধকে প্রশাসনের ‘চরম অযোগ্যতা’ এবং ‘রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়’ বলে বর্ণনা করেন। গারামেন্ডি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি যুদ্ধের চোরাবালিতে নিজেকে ও আমেরিকাকে জড়িয়ে ফেলেছেন। তিনি এখন নিজের ভুল থেকে বেরিয়ে আসার মরিয়া চেষ্টা করছেন।’
জবাবে ক্ষুব্ধ হেগসেথ বলেন, ‘আপনি কি আমাদের শত্রুদের হয়ে ওকালতি করছেন? ট্রাম্পের প্রতি ঘৃণা আপনাকে এই মিশনের সাফল্য দেখতে দিচ্ছে না। আপনি এই যুদ্ধকে চোরাবালি বলে আমাদের শত্রুদের হাতে অপপ্রচারের সুযোগ করে দিচ্ছেন। এ জন্য আপনার লজ্জা পাওয়া উচিত।’
কমিটির চেয়ারম্যান রিপাবলিকান মাইক রজার্স প্রশাসনের বাজেট প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানান। তবে ডেমোক্র্যাট অ্যাডাম স্মিথ খরচের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র মিত্রদের দূরে সরিয়ে দিয়ে একঘরে হয়ে পড়ছে। এমনকি নেটোর সহযোগিতা চাওয়ার মাঝেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও তার স্ত্রীকে অপমান করেছেন।
স্মিথ ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে হামলার প্রসঙ্গও তোলেন। ওই হামলায় অন্তত ১৬৮ জন নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগই ছিল শিশু। তিনি অভিযোগ করেন, হামলার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এর কোনো সদুত্তর দেয়া হয়নি। এটি বিশ্ববাসীর কাছে এমন বার্তা দিচ্ছে যে, আমেরিকা মানবিক বিপর্যয়ের বিষয়গুলো লক্ষ করছে না।





