চলতি মাসের শুরুতে তৈরি করা এক গোপন মূল্যায়নের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে ৩০টির ওপরই পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে ইরান। এর অর্থ হলো, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও মার্কিন রণতরিগুলো এখনো ইরানি হুমকির মুখে। গোয়েন্দা সূত্রমতে, ইরান তাদের অধিকাংশ মোবাইল লাঞ্চার (ভ্রাম্যমাণ উৎক্ষেপক) ব্যবহার করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র সরিয়ে নিতে এবং সরাসরি এসব ঘাঁটি থেকেই হামলা চালাতে সক্ষম।
নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধের আগে ইরানের কাছে যত মোবাইল লাঞ্চার ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ছিল, তার প্রায় ৭০ শতাংশই এখনো অক্ষত আছে। এছাড়া স্যাটেলাইট ছবি ও অন্যান্য নজরদারি যন্ত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দেশটির ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগার ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোর ৯০ শতাংশই এখন আংশিক বা পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর।
গোয়েন্দাদের এই মূল্যায়ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র একযোগে ইরানে হামলা শুরু করার পর ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছিল, তারা ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করে দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র এনওয়াইটির এই প্রতিবেদনকে ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। পেন্টাগনও একে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, অপারেশন এপিক ফিউরি একটি ঐতিহাসিক সাফল্য।
তবে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টও গত সপ্তাহে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তির বড় অংশই এখনো টিকে আছে। অন্যদিকে এনওয়াইটি জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অস্ত্রাগারে টমাহক ক্রুজ মিসাইল ও প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সমরাস্ত্রের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বাঙ্কার ধ্বংসকারী বোমার মজুত ফুরিয়ে আসার ভয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিগুলো পুরোপুরি ধ্বংস না করে কেবল প্রবেশপথগুলো বন্ধ করে দিয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়া বা চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের কথা মাথায় রেখে যুক্তরাষ্ট্র এখন তাদের অবশিষ্ট অস্ত্রাগার ব্যবহারে অনেক বেশি সতর্ক হয়ে পড়েছে। যুদ্ধের এই দীর্ঘসূত্রতা ও অস্ত্র সংকট ওয়াশিংটনের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।





