নতুন করে ইরানে হামলার পরিকল্পনা, ক্ষেপণাস্ত্রকেন্দ্র সচল তেহরানের

প্রতীকী ছবি
বিদেশে এখন
0

শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা কমায়, ইরানের সামরিক ও অবকাঠামোগত লক্ষ্যবস্তুগুলোতে নতুন করে হামলার পরিকল্পনা সাজিয়েছে পেন্টাগন। এছাড়াও, ইরানের মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস করতে বিশেষ পদাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথাও ভাবছে ওয়াশিংটন। তবে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা প্রতিরোধে এরইমধ্যে হরমুজ প্রণালিতে ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্রকেন্দ্র পুনরায় সচল করেছে তেহরান।

দিন যত গড়াচ্ছে, ততই ক্ষীণ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা। সবশেষ ট্রাম্পের চীন সফর ঘিরে ইরান ইস্যুতে বড় ঘোষণা আসার অপেক্ষায় ছিল বিশ্ববাসী। তবে তেহরান ইস্যুতে চীন তাদের পররাষ্ট্রনীতিতে অনড় থাকায় খালি হাতেই ওয়াশিংটনে ফিরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর খবর, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরান যুদ্ধ। কেননা যুদ্ধের প্রভাবে দেশটিতে মাত্রারিক্ত হারে বেড়েছে গ্যাসের দাম। এছাড়াও গেল ৩ বছরের মধ্যে এপ্রিলে রেকর্ড পরিমাণ মুদ্রাস্ফীতির সাক্ষী হয়েছে মার্কিনীরা।

একারণে জনপ্রিয়তায় ব্যাপক ভাটা পড়া ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুত ইরান যুদ্ধের সমাধানে মরিয়া। তাই ফের আলোচনার টেবিল ছেড়ে ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের খবর, ইতোমধ্যে তেহরানে নতুন একটি সামরিক অভিযান পরিচালনার খসড়া প্রস্তুতিও সেরে ফেলেছে পেন্টাগন।

আরও পড়ুন:

এছাড়াও, চলতি সপ্তাহে 'অপারেশন এপিক ফিউরি' পুনরায় শুরুর ইঙ্গিত দেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথেও। কংগ্রেসে দেয়া ভাষণে হেগসেথ জানান, ইরান বিষয়ে বেশ কয়েকটি বিকল্প খোলা রেখেছে ওয়াশিংটন। এর মধ্যে প্রয়োজন হলে ইরানে যুদ্ধের মাত্রা আরও তীব্র করার পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়াও, টাইমস অব ইসরাইলের দাবি, চলতি সপ্তাহের শেষে ইরানে নতুন করে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন ও আইডিএফ।

নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, ইরানে ফের হামলা শুরু করলে দেশটির সামরিক ও অবকাঠামোগত স্থাপনাগুলোকে টার্গেট করবে যুক্তরাষ্ট্র- ইসরাইল। এমনকি ইরানের মাটির গভীরে লুকিয়ে রাখা পারমাণবিক উপদানগুলো ধ্বংসে বিশেষায়িত মার্কিন পদাতিক বাহিনী মোতায়েন করা হতে পারে। যাদের কাজ হবে ইস্পাহানের উচ্চ-মাত্রাসম্পন্ন ইউরেনিয়ামকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো। এ লক্ষ্যে গেল মার্চে কয়েক'শ দক্ষ মার্কিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করেছে পেন্টাগন। তবে এরই মধ্যে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, এ ধরনের স্থল অভিযান শুরু হলে ব্যাপক প্রাণহানির শঙ্কা রয়েছে।

গেল ৭ এপ্রিল এক মাসেরও বেশি রক্তক্ষয়ী সংঘাত শেষে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র- ইরান। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও মধ্যপ্রাচ্যে ৫০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা, দুটি বিমানবাহী রণতরী ও একাধিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে পেন্টাগন।

তবে ছাড় নিতে নারাজ ইরানও। এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালি বরাবর অবস্থিত ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে ৩০টি পুনরায় সচল করেছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র।

ইএ