ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের উত্তেজনা যেন ছড়িয়ে পড়েছে গোটা বিশ্বে। দেশে দেশে বাড়ছে জ্বালানিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। মূল্যস্ফীতির চাপে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে টালমাটাল অবস্থায় অনেক মার্কিন নাগরিক।
ব্যয় বাড়ায় টানা তিন মাসের বেশি সময় ধরে চাপে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ। এরইমধ্যে মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ২ শতাংশে। যা গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত হারে মূল্যস্ফীতি বাড়ার রেকর্ড। এক মাস আগে এপ্রিলেও দেশটিতে মূল্যস্ফীতির হার ছিলো ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। আর যুদ্ধ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারিতে ২ দশমিক ৪ শতাংশের ঘরে ছিলো মূল্যস্ফীতি।
আরও পড়ুন:
পরিসংখ্যান তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ মোট জ্বালানি বিল এক বছর আগের তুলনায় মে মাসে ব্যাপক বেড়েছে। বর্তমানে পেট্রোলের গড় দাম ৪ দশমিক ১৫ ডলার। যা ২৮ ফেব্রুয়ারি ছিলো ২ দশমিক ৯৮ ডলার। ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলা শুরুর পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সংকট ক্রমেই ঘনীভূত হয়।
এতে খাদ্য এবং পোশাকের মতো অন্যান্য প্রয়োজনীয় দৈনন্দিন খরচও ঊর্ধ্বমুখী। স্থায়ীভাবে ইরান যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষ্য না থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে। মূল্যস্ফীতির চাপে নতুন চাকরি পাওয়া এবং চাকরি থেকে ছাঁটাইয়ের শঙ্কা নিয়ে মানুষের মাঝে বাড়ছে হতাশাও। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা তথ্য অনুসারে, টানা তিন মাসের অর্থনৈতিক পতনের পর মার্কিন ভোক্তা মনোভাব এখন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। স্কুলের শিক্ষার্থীদের পরিবহন সেবায় নিয়োজিত বাসের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোও দুশ্চিন্তায়।
চালক ও পরিচারকদের পর জ্বালানিই হলো দ্বিতীয় প্রধান ব্যয়। তাই এটি একটি বিশাল ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এখন জীবনযাত্রায় ব্যয় বাড়া সত্ত্বেও, সুদের হার কমানোর বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছুতেই আহ্বান জানাবেন না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এ অবস্থায় উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির চাপ সামলাতে সুদের হার বাড়ানোর চাপে রয়েছে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ। সিদ্ধান্ত নিতে শিগগিরই বৈঠকের কথা রয়েছে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের।
এদিকে, পৃথিবীর অন্যতম শীর্ষ অর্থনৈতিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান জেপি মরগ্যানের পূর্বাভাস বলছে, ২০২৭ সালের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে বাড়বে সুদের হার। পাশাপাশি গোটা বিশ্বে সুদের হার বৃদ্ধি আসন্ন।
ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলা শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র এমন অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হলেও; ২০২৩ সালের চিত্র ছিলো আরও ভয়াবহ। ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ২০২৩ সালের এপ্রিলে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি গিয়ে দাঁড়ায় ৯ শতাংশের ওপরে।





