ভারতের নৌপরিবহন মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে নিখোঁজ তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। তাদের মরদেহ উদ্ধার ও শনাক্ত করা হয়েছে।’ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে দিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন উপ-রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ওমান উপসাগরে পালাউয়ের পতাকাবাহী ‘সেত্তেবেলো’ নামের একটি তেলের ট্যাঙ্কারে তাদের বিমান থেকে হামলা চালানো হয়েছে। সেন্টকমের দাবি, বারবার নির্দেশ দেয়া সত্ত্বেও জাহাজটি মার্কিন বাহিনীর কথা মানতে ব্যর্থ হওয়ায় এর ইঞ্জিন রুমে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদী অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। ট্যাঙ্কারটি ইরানের তেল পরিবহনের মাধ্যমে অবরোধ লঙ্ঘন করার চেষ্টা করছিল।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংস্থা ভ্যানগার্ড জানায়, মার্কিন হামলার পর জাহাজটির ইঞ্জিন রুমে আগুন ধরে গেলে ওমানি নৌবাহিনী উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। ভারত সরকার জানিয়েছে, ওই জাহাজ থেকে ২১ জন ভারতীয় নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে। এর বাইরে ওমান উপকূলে ‘এমটি জলবীর’ নামের আরেকটি ট্যাঙ্কার নিয়ে পৃথক একটি ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।
সেন্টকম জানিয়েছে, অবরোধ কার্যকর করার পর থেকে এ পর্যন্ত তারা আটটি জাহাজ অচল করে দিয়েছে এবং ১৩৪টি জাহাজকে ফিরিয়ে দিয়েছে। তবে ৪২টি মানবিক সহায়তা পণ্যবাহী জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়েছে। গত সোমবারও ভারতীয় ক্রুসহ ‘মারিভেক্স’ নামের একটি তেলের ট্যাঙ্কার অচল করে দেয় মার্কিন বাহিনী।
ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম নাবিক সরবরাহকারী দেশ। বর্তমানে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন খাতে ভারতের ৩ লাখের বেশি নাবিক কাজ করছেন। আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থা (আইএমও) এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, নাবিকদের জীবন বিপন্ন করে এমন যেকোনো পদক্ষেপ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।





