তাইওয়ান প্রণালিতে পাল্টাপাল্টি সামরিক মহড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন-যুক্তরাষ্ট্র?

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা ইলাস্ট্রেশন
বিদেশে এখন
0

তাইওয়ান সংকট, বাণিজ্য বিরোধ ও প্রযুক্তিগত বিধিনিষেধের মতো বিষয়ে ওয়াশিংটন-বেইজিংয়ের সম্পর্ক বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টায় আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন চীনের প্রেসিডেন্ট। এর মধ্যেই তাইওয়ান প্রণালিতে চীনা যুদ্ধজাহাজ ও মার্কিন যুদ্ধবিমানের অবস্থান কিসের আভাস? এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক জাহাজ বা বিমানের যাতায়াত ক্ষুব্ধ করে বেইজিংকে। তবে কি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টাপাল্টি সামরিক মহড়ার পরিকল্পনা আছে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের?

একই বছরে দ্বিতীয়বার মুখোমুখি বৈঠকে বসতে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে দুই নেতার এ বৈঠককে তাইওয়ান সংকটের মতো জটিল ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা হ্রাসের ফলপ্রসূ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে তার আগেই বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম সংবেদনশীল ও কৌশলগত তাইওয়ান প্রণালিতে উত্তেজনার আভাস। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, তাদের চারপাশে চীনের ৩টি সামরিক বিমান, ৮টি যুদ্ধজাহাজ ও ৭টি অন্যান্য জাহাজ শনাক্ত করা হয়েছে।

এছাড়া গত ২১ আগস্ট একটি মার্কিন সামরিক বিমান তাইওয়ান প্রণালী অতিক্রম করেছে। তবে মার্কিন সপ্তম বহর জানিয়েছে, তাদের একটি টহল ও নজরদারি বিমান আন্তর্জাতিক আইন মেনে প্রণালী অতিক্রম করেছে। প্রতিক্রিয়ায় বেইজিং জানায়, চীনের সামরিক বাহিনী শুরু থেকেই বিমানটিকে ট্র্যাক ও মনিটর করেছে।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের আশংকা, চীন কি তবে তাইওয়ানকে ঘিরে ফেলার মহড়া চালানোর কথা ভাবছে?

অবশ্য এর আগেও চীন তাইওয়ানকে ঘিরে ভূখন্ডের প্রধান বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করার মতো বড় সামরিক মহড়া পরিচালনা করেছে। চীনা বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী এবং রকেট ফোর্সের সমন্বয়ে একসঙ্গে দ্বীপটির চারপাশ ঘিরে ফেলার মহড়া চালায়।

যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক চাপের মুখে বেইজিং এ পদক্ষেপকে বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে জাস্টিস মিশন নামে অভিহিত করে। চীনের ভাষ্য, এসব পদক্ষেপ তাইওয়ানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা।

তবে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের একক আধিপত্য রোধ, মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল নিশ্চিতসহ বেশ কিছু কারণে তাইওয়ানের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখে যুক্তরাষ্ট্র।

প্রশ্ন আসতে পারে, এত ভয়-ভীতি না দেখিয়ে নিজ-ভূখন্ড দাবি করা তাইওয়ানে কেন সরাসরি আক্রমণ করে না চীন? প্রথমত, যুদ্ধের চেয়ে রাজনৈতিক-কৌশলগত চাপ দেয়াকে বেশি প্রাধান্য দেয় চীন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের ভয় এবং যুদ্ধের বিশাল অর্থনৈতিক ও সামরিক ঝুঁকির কারণে চীন সরাসরি আক্রমণ থেকে বিরত থাকছে।

তবে তাইওয়ান আক্রমণ এতোটা সহজ নয়। দ্বীপটিতে সেনা মোতায়েন অত্যন্ত দুরূহ কাজ, এছাড়া শক্তিশালী প্রতিরক্ষা এবং ভূপ্রকৃতির কারণে সমুদ্রপথে আক্রমণ চালিয়ে সহজে চীনের জয় পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। এরউপর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের শঙ্কা।

যুদ্ধ শুরু হলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বিপর্যয় অবধারিত এবং চীনের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আসবে। তাইওয়ানের চিপ নির্মাতা টিএসমসি ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতির অত্যাবশকীয় এ উপাদানটির সিংহভাগ সরবরাহ করে। যুদ্ধ শুরু হলে এই সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়বে, যা চীনসহ পুরো বিশ্ব অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিতে পারে।

তাই অনেক বিশ্লেষক তাইওয়ানে চীনের সরাসরি আক্রমণকে এক প্রকার আত্মঘাতী জুয়া হিসেবে দেখেন। এ যুদ্ধে রয়েছে বড় রকমের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। সামরিক অভিযান ব্যর্থ হলে বা যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে চীনের বর্তমান নেতৃত্ব অর্থাৎ কমিউনিস্ট পার্টির বৈধতাও বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।

এসএইচ