ইরান যুদ্ধ: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন নতুন যুদ্ধের ময়দান মনে করছে তেহরান

গালফ নিউজের বিশ্লেষণ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
বিদেশে এখন
0

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরান দুই পক্ষই বিপরীতমুখী হিসাব কষছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, নির্বাচনের পরপরই এই সংঘাতের অবসান ঘটবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান ঠিক এই সময়টিকেই ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির সবচেয়ে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে। গালফ নিউজের বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সংঘাত শুরুর ছয় মাস পর ইরান পিছু হটার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না। বরং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি বাড়ানো ও জর্ডানের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার মাধ্যমে যুদ্ধের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে তেহরান।

হরমুজকে রাজনৈতিক হাতিয়ার করার কৌশল

মার্কিন নির্বাচনের মাত্র দুই মাস বাকি থাকতে হরমুজ প্রণালিতে কড়াকড়ি জোরদার করেছে তেহরান। বিশ্বের মোট উৎপাদিত অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ পথ বিঘ্নিত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম চড়া থাকবে, যা সরাসরি মার্কিন ভোক্তাদের প্রভাবিত করবে।

আলবামা বিশ্ববিদ্যালয় ও চ্যাথাম হাউসের বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ না হলেও হরমুজে সংকট তৈরি করে মার্কিন অর্থনীতিতে আঘাত হানাই তেহরানের মূল লক্ষ্য। তেলের চড়া দাম এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে মার্কিন ভোটারদের ক্ষোভ ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির দিকে ধাবিত হতে পারে।

মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের জন্য কেন স্পর্শকাতর

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সবকটি (৪৩৫টি) আসন এবং সেনেটের ৩৫টি আসনে ভোট গ্রহণ হবে। বর্তমানে কংগ্রেসে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুবই সামান্য।

রয়টার্স/ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ইরান যুদ্ধ ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনসমর্থন কমে ৩৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা তার মেয়াদের সর্বনিম্ন। এই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হয়ে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিলে ট্রাম্প তার মেয়াদের বাকি দুই বছর নীতি নির্ধারণে তীব্র বাধার মুখে পড়বেন এবং তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে একাধিক তদন্তের মুখোমুখি হবেন।

কঠিন শর্ত ও কৌশলগত ঝুঁকি

নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে যুদ্ধবিরতির জন্য কঠিন শর্ত জুড়ে দিচ্ছে ইরান। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবরুদ্ধ ২ হাজার ৪০০ কোটি (২৪ বিলিয়ন) ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজায়ি জানান, ওয়াশিংটন আস্থা তৈরির সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না নিলে তেহরান নমনীয় হবে না।

তবে এই কৌশলে তেহরানের জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। ইরানের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মুজতবা খামেনির নেতৃত্ব গ্রহণের সংবেদনশীল রূপান্তর প্রক্রিয়া এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক থমাস জুনো সতর্ক করে বলেন, তেহরান হয়তো মার্কিন ধৈর্যের সীমা নিয়ে ভুল হিসাব কষছে, যা তাদের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

এএম