চলতি সপ্তাহে মার্কিন ও সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন বেশ কয়েকটি উপকূলীয় শহর ও কৌশলগত মোখা বন্দর দখল করে নিয়েছে হুথিরা। এতে শত শত মানুষ নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় অনেকেই আশঙ্কা করছেন, দেশটির গৃহযুদ্ধ আবারও পূর্ণাঙ্গ রূপ নিতে পারে।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) শুক্রবার জানিয়েছে, সংঘাতের কারণে তাইজ ও হোদেইদাহ প্রদেশ থেকে ৪৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এদের অনেকেই এর আগে একাধিকবার ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিল। সংঘাতের এলাকাগুলোতে টেলিফোন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে এবং মূল সড়কগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। ঘরছাড়া এসব মানুষের জন্য জরুরি ভিত্তিতে জরুরি আশ্রয়, নগদ অর্থ, খাবার, সুপেয় পানি ও চিকিৎসাসেবা প্রয়োজন।
বাণিজ্যিক ও সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব-এল-মান্দেব প্রণালির ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই হুথিরা উপকূলীয় এলাকায় এ অগ্রগতি বজায় রেখেছে। ২০ মাইল প্রশস্ত এই প্রণালিটি এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্য ও জ্বালানি তেল পরিবহনের প্রধানতম রুট। হুথিরা এই পথ অবরুদ্ধ করলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার খবরে এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে ইয়েমেনবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ সতর্ক করে বলেন, ‘ইয়েমেন নতুন ও আরও বিপজ্জনক এক যুদ্ধপর্বে প্রবেশ করেছে।’ টানা চার বছর তুলনামূলক শান্ত থাকার পর এ যুদ্ধ শুরু হওয়া ইয়েমেনের ৪ কোটি মানুষের জন্য নতুন বিপর্যয় ডেকে এনেছে, যেখানে এমনিতেই প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।





