যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির অধীনে রিয়াদে ত্রিদেশীয় সামরিক প্রধানদের বৈঠক

সৌদি আরবের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে হুথি সমর্থকদের সৌদিবিরোধী সমাবেশে স্লোগান
বিদেশে এখন
0

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে সৌদি আরবের সুরক্ষায় একাট্টা হয়েছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান। আগস্ট মাসে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র আওতায় সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে তিন দেশের সামরিক প্রধানরা জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের ওপর একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে হুথি বাহিনী। যদিও সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা ৬টি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝআকাশে ধ্বংস করেছে। এই হামলার পর পবিত্র নগরী মক্কা, জেদ্দা এবং তেলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শহর ইয়ানবুতে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়। সৌদি আরবের শীর্ষ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব গ্র্যান্ড মুফতি সেনাসদস্যদের হুথিদের ক্ষমতাচ্যুত না করা পর্যন্ত জীবন বাজি রেখে লড়াই করার ধর্মীয় আহ্বান জানিয়েছেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যৌথভাবে হুথি হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং সৌদি আরবের আত্মরক্ষার অধিকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। যৌথ চুক্তি অনুযায়ী, কোনো এক দেশের ওপর হামলা সব দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে। এই চুক্তির অংশ হিসেবে তুর্কি সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারোঘলু অন্যান্য সেনাপ্রধানদের সঙ্গে আলোচনার উদ্দেশ্যে রিয়াদ সফর করছেন।

এদিকে বৈশ্বিক চাপ ও যুদ্ধের পরিধি বৃদ্ধির মুখে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এক মার্কিন টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান দাবি করেন, হুথিরা তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কাজ করছে এবং তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য তারাই দায়ী।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউ ইয়র্কে কাতার ও ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ-অবরোধ ও আর্থিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলে এবং যুদ্ধ বন্ধ করলে সাত দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করে দেবে তেহরান। তা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে হুথি ও ইরানি হামলার কারণে বৈশ্বিক তেল বাজারে অস্থিরতা বজায় রয়েছে।

এএম