ইরানের সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের; সংঘাতের ভবিষ্যৎ কী?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
বিদেশে এখন
0

এক সপ্তাহের মধ্যে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার লক্ষ্যে ইরানের দেয়া একটি প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খারিজ করে দিয়েছেন বলে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এর আগে জাতিসংঘে দেয়া ভাষণে ট্রাম্প ইরানকে ধ্বংস করে দেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের এই প্রত্যাখানের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত কোনো দিকে মোড় নিচ্ছে, তা নিয়ে একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে আল জাজিরা।

ইরানের সাত দিনের প্রস্তাবে কী ছিল?
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, এই প্রস্তাবে এক সপ্তাহের মধ্যে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল চালুর কথা বলা হয়েছিল। ১৭ জুনের ভেস্তে যাওয়া ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলোকে আরও দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেয়া হয় এতে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ১২ বিলিয়ন ডলারের অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করতে হবে, তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে এবং বন্দরগুলোর নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে। একই সঙ্গে লেবাননসহ সব ধরনের সামরিক শত্রুতা স্থগিত রাখার শর্ত দেয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্র শর্তগুলো মেনে নিলে সাত দিনের মাথায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া এবং চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর কথা বলা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?
যুক্তরাষ্ট্র সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ট্রাম্প দ্রুতই এটি নাকচ করে দিয়েছেন। ট্রাম্পের প্রধান দাবিগুলোর একটি হলো—ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না এবং হরমুজ প্রণালিতে মুক্ত চলাচল ফিরিয়ে আনতে হবে।

এদিকে এক মার্কিন কর্মকর্তা আল জাজিরাকে বলেছেন, ওয়াশিংটনের কোনো তাড়াহুড়ো নেই, কারণ তারা হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের সুবিধাজনক অবস্থানে মনে করছে। ট্রাম্প নিজ ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে হরমুজ প্রণালির নাম বদলে ট্রাম্প প্রণালি লেখা একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছেন এবং এর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রয়েছে বলে দাবি করেছেন। তবে ইরান তা অস্বীকার করেছে।

শান্তি আলোচনা কি এখনো চলছে?
হ্যাঁ, আলোচনা চলছে তবে তা পরোক্ষভাবে। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে কাতার দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিনিধি জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

উভয় দেশই জানিয়েছে যে কূটনৈতিক পথ এখনো খোলা রয়েছে। তবে আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো টমাস ওয়ারিক মনে করেন, ওয়াশিংটনে এখনো গভীর সংশয় রয়েছে যে দুই দেশ আদৌ একই জায়গায় পৌঁছাতে পারবে কি না।

সংঘাতের ভবিষ্যৎ কী?
পরিস্থিতি আবার পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে মোড় নিতে পারে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ট্রাম্প তার সহযোগীদের বলেছেন, আগামী নভেম্বরে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবার বোমাবর্ষণ শুরু হতে পারে।

জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ আল জাজিরাকে বলেন, ট্রাম্প কোনো প্রতিকূল শর্তে যুদ্ধ শেষ করতে চান না। নভেম্বরের নির্বাচনের ফলাফল তার নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে। নির্বাচনে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি বড় ধরনের ধাক্কা খেলে তিনি একতরফা সামরিক হামলা জোরদার করতে পারেন, যাতে ওয়াশিংটনকে আত্মসমর্পণকারী হিসেবে মনে না হয়।

এএম