ইন্দোনেশিয়ায় স্বস্তির বৃষ্টি, বিষাক্ত ধোঁয়াশা থেকে রক্ষা পেলো পন্তিয়ানাক

দাবানলের ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে ইন্দোনেশিয়ার পন্তিয়ানাক শহর
বিদেশে এখন
0

ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও দ্বীপে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র দাবানল ও তা থেকে সৃষ্ট বিষাক্ত ধোঁয়াশার পর স্বস্তির বৃষ্টি নেমেছে। এতে দেশটির পশ্চিম কালিম্যানতান প্রদেশের পন্তিয়ানাক শহরের বাসিন্দারা দমবন্ধ করা বিষাক্ত বাতাসের হাত থেকে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। আরব নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বোর্নিও ও কাছের সুমাত্রা দ্বীপের বিস্তীর্ণ পিটল্যান্ড ও বনে আগুন লেগে তৈরি হওয়া এই ক্ষতিকর ধোঁয়াশা আশপাশের দেশ মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরেও ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় সাত লাখ বাসিন্দার পন্তিয়ানাক শহরে ঘন ধোঁয়ার কারণে ঘরের বাইরের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছিল। বন্ধ রাখা হয়েছিল স্কুল এবং গত মাস থেকে এ অঞ্চলে হাজার হাজার মানুষ শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হন।

সাম্প্রতিক বর্ষণে পরিবেশ কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ২৩ বছর বয়সী এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী উরে রোসা ফেব্রিয়ান্তি বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কমার পাশাপাশি পরিস্থিতি উন্নত হওয়ার আশা তৈরি হয়েছে। আমি এটিকে সৃষ্টিকর্তার উপহার হিসেবে দেখছি।’

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইন্দোনেশিয়া সরকার দমকলকর্মীদের পাশাপাশি বিমান থেকে মেঘে রাসায়নিক ছিটিয়ে কৃত্রিম বৃষ্টিপাত (ক্লাউড-সিডিং) এবং ওপর থেকে পানি ঢালার পদ্ধতি ব্যবহার করছে। তবে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্যানুযায়ী, মঙ্গলবারেও পন্তিয়ানাকে বাতাসে পিএম ২.৫ কণার পরিমাণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিরাপদ সীমার চেয়ে ২৩ গুণেরও বেশি ছিল।

সাধারণত শুষ্ক মৌসুমে ইন্দোনেশিয়ায় নিয়মিত দাবানল হলেও এবার ইল নিনো আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে তীব্র খরা দেখা দেয়ায় আগুন বেশি ছড়িয়েছে। এর পাশাপাশি অসৎ উদ্দেশ্যে জমি পরিষ্কারের জন্য জঙ্গল পোড়ানোর নীতিকেও এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এএম