ইরাকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইতিহাস দুই দশকের পুরনো। এবার সেই উপস্থিতিরও অবসান হতে চলেছে। বুধবারের মধ্যেই ইরাকের শেষ মার্কিন ঘাঁটিগুলো থেকে সেনা প্রত্যাহার হচ্ছে। মূলত ২০২৪ সালে ওয়াশিংটন ও বাগদাদ এ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছায়। আর তা বাস্তবায়ন করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।
এরই মধ্যে বিদেশি সেনাদের বিদায় ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে ইরাকিদের মধ্যে। কেউ বলছে, দেশ রক্ষায় সক্ষম ইরাকি বাহিনী। আবার কারও মতে, কিছু বিষয়ে এখনও পিছিয়ে আছে দেশটির সরকার।
ইরাকিরা জানান, ইরাককে রক্ষা করতে কোনো আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ বা দেশটির অভ্যন্তরে কোনো বিদেশি বাহিনীর প্রয়োজন নেই।
ইরাকের এক বাসিন্দা বলেন, ‘আকাশসীমা রক্ষায় ইরাক কার্যত দুর্বল। তাই মার্কিন সেনা যাওয়ার আগেই বিষয়টি নিশ্চিত করা দরকার ছিলো।’
আরও পড়ুন:
কিন্তু মার্কিন সেনা চলে গেলে ইরাক কি সত্যিই নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে? এমন সংশয়ের মধ্যেই ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের বিজয়ের পর ইরাকি বাহিনী নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে বলে জানায় তারা।
ইরাকের মিডিয়া সেলের উপ-প্রধান মেজর জেনারেল তাহসিন আল-খাফাজি বলেন, ‘ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী প্রস্তুত। ২০১৭ সালে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে বিজয় থেকে আজ পর্যন্ত সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে দমনের মধ্য দিয়ে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে তারা। ইরাকি বাহিনী সীমান্ত রক্ষা, সন্ত্রাসীদের সন্ধান এবং তাদের ঘাঁটিতে আঘাত হানতে সক্ষম।’
তবে সবচেয়ে উদ্বেগ রয়েছে আকাশসীমা নিয়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন বাহিনী চলে যাওয়ার আগে ইরাকের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন ছিলো।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলী আল-মুয়াল্লিম বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের প্রত্যাহার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কিন্তু আকাশসীমা সুরক্ষা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রক্ষায় ইরাকের কাছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নেই। আর এসব চ্যালেঞ্জেরই মুখে পড়বে ইরাক।’
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের প্রত্যাহার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কিন্তু আকাশসীমা সুরক্ষা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রক্ষায় ইরাকের কাছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নেই। আর এসব চ্যালেঞ্জেরই মুখে পড়বে ইরাক।
অবশ্য এই ইস্যু ছাড়াও রয়েছে ইরাকে ইসলামিক স্টেট ও ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতি। কেননা মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ফলে তাদের প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।




