দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে তাইওয়ানের সমালোচনা; ‘শহিদদের অবমাননার’ অভিযোগ বেইজিংয়ের

চীনা ও তাইওয়ানের পতাকার সামনে রাখা সেনাদের ক্ষুদ্র মডেল
বিদেশে এখন
0

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা নিয়ে সমালোচনা করায় তাইওয়ানের বিরুদ্ধে ‘শহিদদের অবমাননার’ অভিযোগ তুলেছে চীন সরকার। বেইজিংয়ের ভাষ্যমতে, যুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহ ও বেইজিংয়ের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা মানে ইতিহাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জাপানি আগ্রাসনের সময় লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানির স্মরণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি চীনা রাজনীতিতে অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ওই যুদ্ধে দুই দেশের মিত্রতার ইতিহাস স্মরণ করেছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

তবে তাইপে সরকারের দাবি, বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে লড়েছিল মিত্রজোটের সঙ্গী তৎকালীন ‘রিপাবলিক অব চীন’ সরকার, বর্তমানের ‘পিপলস রিপাবলিক অব চীন’ নয়। ফলে বেইজিং সম্পূর্ণ ভুলভাবে সেই ইতিহাসের কৃতিত্ব দাবি করছে। ১৯৪৯ সালে গৃহযুদ্ধে পরাজিত হয়ে রিপাবলিক অব চীন সরকার তাইওয়ানে পাড়ি জমায়, যা এখনো তাদের আনুষ্ঠানিক নাম।

বুধবার বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত নিয়মিত ব্রিফিংয়ে চীনের তাইওয়ান বিষয়ক দপ্তরের মুখপাত্র ঝাং হান জানান, তাইওয়ানের ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক প্রোগ্রেসিভ পার্টি (ডিপিপি) ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ‘এটি ইতিহাসের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা, শহিদদের অবমাননা এবং জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল।’

চীনের সরকারি ইতিহাস অনুযায়ী, যুদ্ধকালে কমিউনিস্ট গেরিলা বাহিনীই ছিল মূল চালিকাশক্তি। যদিও রিপাবলিকান বাহিনীর ভূমিকা সেখানে আংশিক স্বীকার করা হয়। বেইজিং বারেবারে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তেকে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে চিহ্নিত করে তার সঙ্গে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।

এএম