মার্কিন জ্বালানি দপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ থেকে প্রায় ৮ লাখ ব্যারেল তেল কমেছে। এর ফলে দেশটির বর্তমান মজুত দাঁড়িয়েছে ২৮ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেলে, যা ১৯৮২ সালের অক্টোবরের পর সর্বনিম্ন। নতুন করে আরও ৪ কোটি ব্যারেল প্রত্যাহার করা হলে তা ১৯৮২ সালে রেকর্ড সংরক্ষণ শুরুর পর দেশটির ইতিহাসের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে যাবে। বর্তমান এই মজুত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র দুই সপ্তাহের অভ্যন্তরীণ তেলের চাহিদা মেটানো সম্ভব।
লন্ডনে আয়োজিত এনার্জি ইন্টেলিজেন্স ফোরামে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি অ্যারামকোর প্রধান নির্বাহী আমিন নাসের সতর্ক করে জানান, বিশ্বজুড়ে জ্বালানির মজুত ‘ভয়াবহ রকমের কম’। তিনি বলেন, মজুত থেকে তেল ছেড়ে সাময়িকভাবে কিছুটা সময় কেনা গেলেও তা বৈশ্বিক চাহিদা ও জোগানের মধ্যকার মূল ভারসাম্যহীনতা দূর করতে পারবে না।
আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সামাল দিতে ট্রাম্প প্রশাসন ব্যাপক চাপে রয়েছে। বিশেষ করে কৃষকদের সহায়তা দিতে শুল্কমুক্ত ডিজেল সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইরান সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজার স্থিতিশীল রাখতে এর আগে মোট ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন, যার অংশ হিসেবে নতুন এই নিলামের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি জি-৭ জোটের পক্ষ থেকেও বাজারে অতিরিক্ত ১০ কোটি ব্যারেল তেল ও ডিজেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভেনিজুয়েলার সঙ্গে জ্বালানি চুক্তির ফলে খুব দ্রুত ও নামমাত্র খরচে এই কৌশলগত মজুত পুনরায় পূরণ করা সম্ভব হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্পের এই দাবি বাস্তবসম্মত নয়; বরং জরুরি মজুত পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল একটি প্রক্রিয়া, যার জন্য কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।





