বুধবার নয়াদিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের সংসদ সদস্যরা যন্তর মন্তরের উদ্দেশে রওনা হলে পুলিশ তাদের বাস আটকে দেয়। এর পরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রা বলেন, ‘এভাবেই তারা সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আচরণ করে, যারা কেবল নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে চাইছেন। পুলিশ আমাদের মারছে। পুলিশ সদস্যরা আমার সারা শরীর আঁচড়ে দিয়েছে। তারা আমাদের মাটিতে ফেলে দিয়েছে। এখন আমরা এখান থেকে নড়ব না। তাদের বাহিনী ফিরিয়ে নিতে বলুন। আমি এখান থেকে নড়ব না।’
পুলিশি বাধার মুখে প্রিয়াঙ্কা বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা কর্মীদের ভিড়ের মধ্যে রাস্তায় শুয়ে পড়েন। এ সময় রাহুল গান্ধীসহ কংগ্রেস ও ইন্ডিয়া জোটের নেতারা তাকে ঘিরে দাঁড়ান যাতে পুলিশ তার কাছে পৌঁছাতে না পারে। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই রাহুল গান্ধীকে তুলে নিয়ে আটক করে পুলিশ। এরপর নারী পুলিশ সদস্যরা প্রিয়াঙ্কাকেও জোরপূর্বক পুলিশের বাসে তুলে নিয়ে যায়।
কংগ্রেস সাংসদ চরণজিৎ সিং চান্নি বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের দিকে যেতে চাই। এই সরকার গুন্ডামিতে নেমেছে। এখানে কোনো গণতন্ত্র নেই। আমাদের থামিয়ে দেয়া হচ্ছে।’
কংগ্রেস নেতা ও রাজ্যসভা সাংসদ পবন খেরা বলেন, ‘এটি আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। সংবিধানের ১৯ অনুচ্ছেদ আমাদের এভাবে প্রতিবাদ করার অনুমতি দেয়। যন্তর মন্তর একটি নির্ধারিত প্রতিবাদস্থল। এখানে যদি প্রতিবাদ করতে না পারি, তাহলে কোথায় করব? আমরা দেশের ভোটারদের অধিকারের জন্য লড়ছি, অথচ প্রতিবার আমাদের এভাবে থামিয়ে দেয়া হচ্ছে। সংসদ সদস্যদের নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। এটি দিল্লি পুলিশের দোষ নয়, তাদের বস একজন কাপুরুষ।’
বাস থেকে নামার সময় আরজেডি সাংসদ মনোজ কুমার ঝা বলেন, ‘এটি একটি সূচনা। কেবল জ্ঞানেশ কুমার নয়, এই সরকার এখন বিদায় নিতে চলেছে। তারা ভারতের আত্মার ওপর, ভারতের গণতন্ত্রের ওপর লাঠিচার্জ চালাচ্ছে। এ ধরনের লোকদের ধিক্কার।’
কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও উত্তরাখণ্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কুমারী সেলজা বলেন, ‘যে প্রতিষ্ঠানটি আমাদের সংবিধান ও গণতন্ত্রের অভিভাবক হওয়ার কথা, আজ সেই অভিভাবকই শিকারিতে পরিণত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন বরং প্রধান নির্বাচন কমিশনার আমাদের গণতন্ত্রের ওপর ঘনিয়ে আসা সন্দেহের মেঘ ও এর অস্তিত্বের প্রতি হুমকির জন্য অনেক বড় দায়ী।’
সিপিএম সাংসদ জন ব্রিট্টাস বলেন, ‘মালায়ালি, কাশ্মীরি সবাই এখানে। জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতে সবাই ঐক্যবদ্ধ। আমরা সবাই একসঙ্গে আছি।’
এর কয়েক ঘণ্টা আগে রাহুল গান্ধী যন্তর মন্তর থেকে নতুন করে প্রতিবাদ শুরুর ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতেই হবে।’ তিনি জ্ঞানেশ কুমারকে অবৈধ নির্বাচন কমিশনার আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা হলো নির্ধারিত প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে গিয়ে আবার একসঙ্গে বসা এবং দেশকে জানানো যে আমাদের কাছে জ্ঞানেশ কুমার দেশের বৈধ নির্বাচন কমিশনার নন।’





