জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং তীব্র আবাসন সংকটের প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়াজুড়ে অভিবাসনবিরোধী মনোভাব জোরালো হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কট্টর ডানপন্থি দল ওয়ান নেশনের পক্ষ থেকেও বিরোধী জোটের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছিল।
মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেলর বলেন, ‘আজ আমরা যে প্রস্তাব দিচ্ছি তা এই দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অভিবাসন হ্রাস। এটি অস্ট্রেলিয়া এবং আমাদের জাতীয় স্বার্থকে সবার আগে স্থান দেবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রথম ও দ্বিতীয় বছরে অভিবাসনের সংখ্যা হবে এক লাখ এবং চতুর্থ বছরে তা দাঁড়াবে এক লাখ ৬০ হাজারে। এটি আমাদের সড়ক, বিদ্যালয়, অবকাঠামো ও বাড়িঘরের ওপর চাপ কমাবে এবং দেশকে প্রয়োজনীয় স্বস্তি দেবে।’
প্রস্তাবিত নীতি অনুযায়ী, চার বছর মেয়াদে অস্থায়ী ভিসার সংখ্যা ৬ লাখ ৫০ হাজার কমানো হবে। পাশাপাশি মানবিক ভিসার সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে ১০ হাজার নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তির সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার এবং পড়াশোনা শেষে কাজের জন্য প্রচলিত অস্থায়ী গ্র্যাজুয়েট ভিসা কর্মসূচি পুরোপুরি বাতিল করার কথা বলা হয়েছে। তবে দক্ষ কর্মীদের জন্য অস্থায়ী ভিসা ১ লাখ বাড়ানো এবং নির্মাণ শ্রমিকদের ভিসা আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জোটটি।
অ্যাঙ্গাস টেলর অভিযোগ করেন, লেবার পার্টির সরকারের আমলে দক্ষ অভিবাসনের পরিবর্তে গণ-অভিবাসনের দিকে ঝুঁকে পড়া হয়েছে এবং তারা এই নীতি পরিবর্তন করবেন। এর আগে ক্ষমতাসীন মধ্য-বাম লেবার সরকার ২০২৮ সালের মধ্যে বার্ষিক অভিবাসন ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল, তবে বিরোধীদের প্রস্তাবটি তার চেয়েও অনেক বেশি কঠোর।
করোনা মহামারির পর ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে সীমান্ত খুলে দেওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী কর্মীদের আগমন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। ২০২৫ সালের ৩০ জুন শেষ হওয়া অর্থবছর পর্যন্ত দেশটির নেট অভিবাসন ছিল ৩ লাখ ৬ হাজার। অস্ট্রেলিয়ার পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন ২০২৮ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।





