সাবেক বিচারক শান্তিতে নোবেল পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় আইসিসির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)
বিদেশে এখন
0

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সাবেক এক বিচারক শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় আদালতটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের ফলে আদালতকে সেবা দেয়া বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও শাস্তির মুখে পড়তে পারে। এতে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও তীব্র হল। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

শুক্রবার ঘোষিত এই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন আইসিসির ডেপুটি প্রসিকিউটর নাজহাত শামিম খান। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ আদালতের বিচারকাজ থামাতে পারবে না। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইনের শাসন ও একটি স্বাধীন বিচারিক প্রতিষ্ঠানের কাজের ওপর আঘাত হানতেই এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। আমাদের সব পরিস্থিতি, তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আদালতটিকে দুর্বৃত্ত আদালত আখ্যা দিয়ে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কখনোই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে আমেরিকানদের বিচার করতে দেবেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ কারণেই আজ যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। আমরা এই দুর্বৃত্ত আদালতের সঙ্গে সব ধরনের লেনদেন নিষিদ্ধ করব, তাদের সম্পদ আটকে দেব এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম অচল করে দেব।’

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করায় আইসিসির ওপর দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষুব্ধ ওয়াশিংটন। এছাড়া আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আদালতের অতীতের একটি তদন্ত নিয়েও অসন্তোষ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের, যা পরে আদালত বন্ধ করে দেয়।

২০০২ সালে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচারের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত এই আদালতের সদস্যসংখ্যা ১২৫। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক ছাড়া ন্যাটোর সব সদস্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব দেশ রয়েছে। শুক্রবার শান্তিতে নোবেলজয়ী দক্ষিণ আফ্রিকার আইনবিদ নাভি পিল্লাই ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আইসিসির আপিল বিভাগের বিচারক ছিলেন। নোবেল কমিটি বলেছে, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতিষ্ঠান ও বিচারকেরা যখন রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে, তখন এই স্বীকৃতি একটি বড় বার্তা। কমিটি আরও উল্লেখ করে, ‘আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থা যেখানে যুদ্ধাপরাধীদের জবাবদিহির মুখোমুখি করা হয় এবং নির্যাতনের শিকার মানুষের বিচার নিশ্চিত হয়, তা একটি শান্তিময় পৃথিবীর পূর্বশর্ত।’

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে আইসিসির সঙ্গে যুক্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ, বিমা সুবিধা বাতিল এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা স্থগিত হতে পারে। তবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইসিসি বেশ কিছুদিন ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আদালতের কম্পিউটারে মাইক্রোসফটের বদলে ওপেন সোর্স সফটওয়্যার ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং ব্যাংকিং ও স্বাস্থ্যবিমার বিকল্প পথও খোঁজা হয়েছে।

রুবিও বলেন, আইসিসির প্রতিষ্ঠাতা রোম সংবিধির সদস্যদেশগুলো যাতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের সমাধান করতে পারে, সেজন্য আলোচনার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দিতে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ বিশেষ লাইসেন্স ইস্যু করবে। তবে রুবিও কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, ‘হয় আইসিসি তাদের হুমকি বন্ধ করবে, নয়তো আমরাই আইসিসিকে থামিয়ে দেব। মিত্রদেশগুলোর কাছে আমাদের প্রত্যাশা, তারা যেন আদালতকে নিয়ন্ত্রণ করে।’

এএম