মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতা; ওলেশকিতে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত রাশিয়া-ইউক্রেন

মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প
বিদেশে এখন
0

মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের ফ্রন্টলাইন শহর ওলেশকিতে স্থানীয়ভাবে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। আগামী মঙ্গলবার থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে বলে উভয় দেশ নিশ্চিত করেছে। ডিপিএ ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

কয়েক মাস ধরে চলা তীব্র লড়াইয়ের কারণে সম্মুখসারির এই শহরটিতে প্রায় দুই হাজার বেসামরিক মানুষ আটকা পড়ে আছেন। শহরটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই বললেই চলে, চারপাশের রাস্তাগুলোতে পুঁতে রাখা হয়েছে স্থলমাইন এবং সেখানে নিয়মিত সামরিক সংঘাত চলছে।

রুশ প্রতিরক্ষা দপ্তরের বরাত দিয়ে দেশটির সেনাপ্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভ জানান, ওলেশকি এলাকায় মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার অংশ হিসেবে খেরসন অভিমুখে গোলাগুলি ও হামলা স্থগিত রাখবে রুশ বাহিনী। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভও যুদ্ধবিরতির বিষয়ে সম্মতি প্রকাশ করেছে। তবে এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ঠিক কতদিন থাকবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বার্তায় ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, ওলেশকির বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও তাদের উদ্ধারে সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে ইউক্রেনীয় বাহিনী। দেশটির মানবাধিকার কমিশনার দিমিত্রো লুবিনেটস জানান, এই চুক্তির আওতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে, মানবিক সহায়তা পৌঁছাবে এবং যারা শহর ছাড়তে চান তাদের নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হবে।

এর আগে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে এই স্থানীয় যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতা করেছেন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্ত্রী জানান, ওলেশকির বাসিন্দারা চরম বিদ্যুৎ সংকটে দিন কাটাচ্ছেন, মাইনভর্তি সড়কের মধ্যে বসবাস করছেন এবং তারা নিয়মিত হামলার শিকার হচ্ছেন। যুদ্ধরত দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি এই সাময়িক যুদ্ধবিরতির শর্ত চূড়ান্ত করেছেন।

এর আগে ফ্রন্টলাইনের এই শহরটিতে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ার জন্য রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আহ্বান জানিয়েছিলেন ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পোপ চতুর্দশ লিও। ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওলেশকি শহরটি নিপ্রো নদীর তীরে অবস্থিত এবং বর্তমানে এটি রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সরবরাহ বন্ধ থাকায় সেখানে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে বলে দীর্ঘ দিন ধরেই সতর্ক করে আসছে আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো। নদীটির অপর পারে মাত্র ৯ কিলোমিটার দূরে ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে থাকা আঞ্চলিক রাজধানী খেরসন অবস্থিত। দুই শহরের মাঝখান দিয়েই চলে গেছে সম্মুখ যুদ্ধরেখা।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ রুশ বার্তা সংস্থা তাসকে জানান, আটকে পড়া বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে অন্তত কয়েক দিন সময় লাগবে। ওলেশকি থেকে যে কেউ চাইলে নিরাপদে বেরিয়ে যেতে পারবেন। মেলানিয়া ট্রাম্পের এই ভূমিকাকে স্বাগত জানিয়ে পেসকভ বলেন, মানবিক কার্যক্রমের সমন্বয়ে তিনি উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট পুতিন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যকার টেলিফোন আলাপেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দলের পার্লামেন্টারি নেতা ডেভিড আরাখামিয়া টেলিগ্রামে জানান, ওলেশকিকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করতে শিগগিরই তৎপরতা শুরু হবে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো একটি স্থায়ী মানবিক করিডোর তৈরি করা, যাতে বেসামরিক মানুষদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছানো যায়। মেলানিয়া ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী সেই লক্ষ্যেই পৌঁছাবে এই সমঝোতা।

কয়েক বছরের লাগাতার যুদ্ধের কারণে ওলেশকির চারপাশের এলাকায় বিপুল পরিমাণ মাইন ছড়িয়ে রয়েছে। ফলে যেকোনো দিক দিয়েই শহরটি থেকে বের হওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। এদিকে ক্রেমলিন অভিযোগ করে আসছে, ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলার কারণে ওলেশকিতে খাদ্য ও ত্রাণ সরবরাহ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছিল না।

এএম