যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা: আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পথে অগ্রগতির দাবি ভ্যান্সের

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স
বিদেশে এখন
1

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেছেন, আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তিনি দুজনই বেশ আশাবাদী। গতকাল (সোমবার, ২ নভেম্বর) ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রায় এক ঘণ্টা আগে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা নিয়ে প্রেসিডেন্ট এবং আমি দুজনই বেশ ইতিবাচক। আমরা এ নিয়ে কাজ চালিয়ে যাব।’

তিনি বলেন, ‘ইরানিরা সব সময়ই কিছুটা অনিশ্চিত আচরণ করে। প্রেসিডেন্ট যেমনটা সব সময় বলেন, তার হাতে সামরিক ও অসামরিক—উভয় বিকল্পই খোলা রয়েছে। তবে আমরা অবশ্যই কিছুটা অগ্রগতি অর্জন করেছি। দেখা যাক আরও এগোনো যায় কি না।’

পুনরায় হামলা শুরুর আগে ইরানকে কোনো সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স বলেন, ‘না, আমরা কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করিনি।’

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তাদের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করার পর আমরা নিশ্চিত করতে চাই যেন তারা সেটি আবার গড়ে না তোলে বা গড়ার চেষ্টা না করে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মনে করি সেদিকে যাওয়ার একটি পথ খোলা আছে। তবে তারা যে পরমাণু কর্মসূচি আর গড়ে তুলবে না, সে বিষয়ে একটি দৃঢ় ও যাচাইযোগ্য প্রতিশ্রুতি প্রয়োজন।’

ভ্যান্সের এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগে ওয়াশিংটনে লিংকন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুল পুনরায় চালুর অনুষ্ঠানে কথা বলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেখানে তিনি জানান, নয় মাসে গড়ানো এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে ইরান একটি চুক্তি করতে চায়।

ট্রাম্প বলেন, ‘তারা একটি চুক্তি করতে চায় এবং তা হতে পারে।’ তিনি জানান, ইরানের নেতাদের লক্ষ্যবস্তু বানানো বন্ধ করতে ওয়াশিংটনকে অনুরোধ করেছে তেহরান। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তা বন্ধ করব।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ওই হামলার জবাবে পুরো অঞ্চলে পাল্টা হামলা চালায় ইরান।

পরবর্তী সময়ে কূটনৈতিক তৎপরতা এবং গত জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হলেও উত্তেজনা থামেনি। বিশেষ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ-চলাচল ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েই গেছে।

এএম