ভোটে ভরাডুবির জন্য ইরান যুদ্ধকে দায়ী করলেন ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প
বিদেশে এখন
0

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবির পেছনে অন্যতম কারণ দেশটির অর্থনীতি, জীবন যাত্রার ব্যয় ও ট্রাম্পের প্রতি মার্কিন জনগণের অসন্তুষ্টি। ভোটের পর চালানোর বিভিন্ন জরিপ বলছে, ট্রাম্পের প্রতি চরম অসন্তোষ জানিয়েছেন প্রতি ১০ জনের ৬ জনই। অনেকের মতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা আগের চেয়ে আরও খারাপ অবস্থানে চলে গেছে। এদিকে, হারের পেছনে ইরান যুদ্ধকে দায়ী করে ট্রাম্প বলেন, জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোটাররা ক্ষুদ্ধ হয়েছেন।

দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের নির্ভরযোগ্য ঘাঁটিতে অবিশ্বাস্য বিজয় অর্জন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। ভূমিধস বিজয়ের মাধ্যমে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিলো বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা। বিশ্লেষকরা বলছেন মধ্যবর্তী নির্বাচনে এমন ফলাফলে কোনো রহস্য নেই। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যাওয়া এবং বাণিজ্য শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবৃদ্ধি ভোটারদের ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইরান যুদ্ধ বড় প্রভাব ফেলেছে বলে স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। যা রিপাবলিকানদের ক্ষতি করেছে। এদিকে, ট্রুথ সোশ্যালে নিজেকে জাহির করে বলেন, তিনি ব্যালটে থাকলে রিপাবলিকানরা বিপুল ভোটে জয়ী হতো।

আরও পড়ুন:

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ভোটাররা জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনৈতিক অস্থিরতা, বেকারত্ব, জ্বালানির উচ্চ দামের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই দায়ী করছেন। তবে এবারের নির্বাচনের ভোটারদের উদ্বেগের শীর্ষে রয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয়। সিএনএন-এর জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তুষ্টি জানিয়েছে ভোটারদের ৪ ভাগের ৩ অংশ। এছাড়া, প্রতি ১০ জনের ৬ জনই ট্রাম্পের কাজের প্রতি চরম বিরক্ত জানিয়েছেন। ট্রাম্পের দুই বছরের শাসনামলে আগের চেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছেন তারা।

এই অসন্তোষের পেছনে দুটি কারণকে বড় করে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প সম্পর্কে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়া। সার্বিক পরিস্থিতির জন্য এবার বেশিরভাগ জনগণ সরাসরি ট্রাম্পকে দোষারোপ করেছেন। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের চেয়ে নিজের স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন ট্রাম্প এবং অভিবাসন আইন নিয়ে বাড়াবাড়ি করেছে তার প্রশাসন। ডেমোক্র্যাটদের বিজয়কে গণতন্ত্রের জয় বলছেন মার্কিন ভোটাররা।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বিপুল সাফল্যে হতাশ হাউজ স্পিকার মাইক জনসন। তিনি বলেন, এবার ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটরা তদন্ত শুরু করলে হাউজ সার্কাসে পরিণত হবে।

এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ব্যাপক আশা জাগিয়েছে।

এফএস