নেসেটে (ইসরাইলি পার্লামেন্ট) সাতটি আসন রয়েছে অতি-অর্থোডক্স বা হারেদিদের সমর্থিত দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের। দলের প্রতিনিধিরা প্রেসিডেন্টকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তারা কোনো প্রার্থীর নামই সুপারিশ করছেন না। তবে অতি-অর্থোডক্স ইহুদিদের তোরাহ অধ্যয়ন ও সামরিক বাহিনীতে সেবা সংক্রান্ত দাবি পূরণ করলে যেকোনো প্রার্থীকে সমর্থন দেয়ার পথ খোলা রেখেছেন তারা। এর আগে জোটের আরেক ধর্মীয় শরিক দল শাস গত বুধবার নেতানিয়াহুকে সরকার গঠনের জন্য সুপারিশ করেছিল।
ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের এই সিদ্ধান্তে ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর পক্ষে সুপারিশকারী আইনপ্রণেতার সংখ্যা ৫৩ থেকে কমে ৪৬-এ দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ইয়াশার দলের প্রধান তথা বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের সমর্থনে রয়েছেন ৬৭ জন আইনপ্রণেতা। নেসেটের ৪৮ জন ইহুদি বিরোধী সদস্য এবং যৌথ তালিকা (জয়েন্ট লিস্ট) ও ইউনাইটেড আরব লিস্টের (রাম) ১৯ জন আরব আইনপ্রণেতা আইজেনকোটকে সুপারিশ করার কথা জানিয়েছেন।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজনৈতিক ধাক্কা খেয়েছেন, যার প্রভাব নেতানিয়াহুর অবস্থানের ওপরও পড়েছে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত নেতানিয়াহুর ওপর এই নির্বাচনী ফল বাড়তি মানসিক ও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে।
প্রেসিডেন্ট হারজোগ বৃহস্পতিবার ওৎজমা ইহুদিত, ডেমোক্র্যাটস, রাম, জয়েন্ট লিস্ট, ইয়াশার ও লিকুদ পার্টির প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তিনি সরকার গঠনের জন্য যেকোনো আইনপ্রণেতাকে দায়িত্ব দেবেন। মনোনীত ব্যক্তি জোট গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন, যা প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন বাড়ানো যেতে পারে।
সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনের কারণে আইজেনকোট সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক সুযোগ পেলেও অন্তত ৬১ জন সদস্যের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করা তার জন্য কঠিন হতে পারে। আইজেনকোট বলেন, ‘আমি একটি জায়নবাদী সরকার গঠন করতে চাই।’ তবে আরব আইনপ্রণেতাদের সমর্থন নিয়ে জোটের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কিছু ইহুদি বিরোধী দল আরবদের অংশগ্রহণ বা সমর্থন প্রত্যাখ্যান করলেও, আরব দলগুলো সরকারে যোগ না দিয়ে বাহির থেকে নিরাপত্তা ছাতা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। বিনিময়ে তারা ফিলিস্তিনিদের গৃহ ধ্বংস বন্ধ ও অপরাধ দমনের গ্যারান্টি দাবি করছে।





