যুক্তরাষ্ট্রের মূল ক্ষমতায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে বহাল থাকলেও, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ এখন বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের হাতে। ফলে ভোটারদের প্রত্যাশার চাপ বহুলাংশে বেড়ে গেছে। পার্টির ভেতরের অভ্যন্তরীণ আদর্শিক মতভেদ সামলে কীভাবে তারা আর্থিক সংকট মোকাবিলা করবেন, তার ওপরই নির্ভর করছে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাদের ভাগ্য।
ডেমোক্র্যাটিক নেতৃত্বের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—তারা কি একদলীয় বিল পাস করে তা প্রেসিডেন্টের ভেটোর মুখে ফেলবে, নাকি ট্রাম্পের পপুলিস্ট মনোভাবকে কাজে লাগিয়ে দ্বিদলীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে জনগণের জন্য বাস্তব সুবিধা আনবে? যেমন স্বাস্থ্যসেবার খরচ কমানোর মতো জনপ্রিয় সিদ্ধান্ত ট্রাম্প আটকে দিলে তা নিয়ে আগামী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা রাজনৈতিক সুবিধা নিতে পারে। অন্যদিকে দ্বিদলীয় সমঝোতার মাধ্যমে যেকোনো অর্থনৈতিক স্বস্তি নিশ্চিত করাও নির্বাচনী বাজারে বেশি কার্যকর হতে পারে।
নির্বাচনি প্রচারণায় ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং মেডিকেইডের মতো সামাজিক সুরক্ষায় বড় ধরনের বাজেট কাটছাঁটের তীব্র সমালোচনা করেছিল। ফলে নীতিগত দ্বন্দ্ব নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ফের সরকার অচল (গভর্নমেন্ট শাটডাউন) হওয়ার মতো মুখোমুখি সংঘাত তৈরি হতে পারে। তবে ডেমোক্র্যাটদের নিজেদের ভেতরেই ট্রাম্পের শুল্কনীতি নিয়ে কী করা উচিত, তা নিয়ে ঐকমত্য নেই। শ্রমিক সংগঠন এএফএল-সিআইও-এর প্রেসিডেন্ট লিজ সুলার ট্রাম্পের শুল্ক পুরোপুরি বাতিলের পক্ষে অনড় সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
ভার্জিনিয়ার সাবেক গভর্নর টেরি ম্যাকাউলিফ বলেন, ‘ভোটাররা আসলে কোনো দলকেই অন্ধভাবে পছন্দ করে না। তারা শুধু চায় নির্বাচিত প্রতিনিধিরা গিয়ে কাজের কাজটুকু করুক।’ প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলোর একটি অংশ আবার বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের জবাবদিহির আওতায় এনে পণ্যের দাম কমানোর ওপর জোর দিচ্ছে। সব মিলিয়ে বিপুল জয়ের পর অভ্যন্তরীণ মতভেদ মিটিয়ে দ্রুত নীতি নির্ধারণ না করলে দুই বছর পর ভোটারদের অসন্তোষের মুখে পড়ার ঝুঁকি ডেমোক্র্যাটদের জন্যও তৈরি হতে পারে।
—পলিটিকোর প্রতিবেদনের অবলম্বনে





