যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ‘নীল সুনামি’; ইতিহাস গড়লেন ১২ প্রার্থী

ক্রিস পাপাস, কেইশা ল্যান্স বটমস ও আবদুল এল-সায়েদ
বিদেশে এখন
0

যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভূতপূর্ব জয় হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস), সেনেট এবং একাধিক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ভেঙে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে দলটি। এ নির্বাচনে বেশ কয়েকজন প্রার্থী জয়ী হয়ে মার্কিন রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়েছেন।

সেনেট নির্বাচনে বেশ কিছু ঐতিহাসিক সাফল্য এসেছে। মিশিগান থেকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ মার্কিন ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সেনেটর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে তিনি এই জয় পান। মিনেসোটা থেকে প্রথম আদিবাসী নারী সেনেটর হিসেবে জয়ী হয়েছেন পেগি ফ্ল্যানাগ্যান। অন্যদিকে নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে নির্বাচিত ক্রিস পাপাস সেনেটে প্রথম প্রকাশ্যে নিজেকে সমকামী ঘোষণা দেয়া সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।

গভর্নর পদেও তৈরি হয়েছে নতুন ইতিহাস। আটলান্টার সাবেক মেয়র ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কিশা ল্যান্স বটমস যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর এবং একই সঙ্গে জর্জিয়ার প্রথম নারী গভর্নর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। নিউ মেক্সিকোতে প্রথম আদিবাসী নারী গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন ডেব হাল্যান্ড। টেক্সাসে টানা চারবারের রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটকে পরাজিত করে অঙ্গরাজ্যটির প্রথম লাতিনা গভর্নর হয়েছেন জিনা হিনোহোসা।

এ ছাড়া ওহাইওতে ডক্টর অ্যামি অ্যাক্টন প্রথম নারী ও প্রথম ইহুদি গভর্নর নির্বাচিত হন। টেনেসিতে বিজয়ী রিপাবলিকান প্রার্থী মারশা ব্ল্যাকবার্ন অঙ্গরাজ্যটির প্রথম নারী গভর্নর হিসেবে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমরা টেনেসির সাধারণ মানুষের ওপর ভিত্তি করে প্রচারণা চালিয়েছি, গণমাধ্যম বা অন্য প্রার্থীর শর্তে নয়।’ অন্যদিকে উইসকনসিনে ডেভিড ক্রাউলি, নেভাদায় অ্যারন ফোর্ড এবং ফ্লোরিডায় রিপাবলিকান বায়রন ডোনাল্ডস নিজ নিজ অঙ্গরাজ্যের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন। মিনেসোটার প্রথম নির্বাচিত নারী গভর্নর হয়েছেন সেনেটর অ্যামি ক্লোবুচার।

কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা ৪০টিরও বেশি আসন নতুন করে দখলে নিয়েছে, যা তাদের আসন সংখ্যা প্রায় ২৫৫-এ নিয়ে ঠেকাবে। এটি ২০০৮ সালের পর দলটির সবচেয়ে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা। পপুলার ভোটে ডেমোক্র্যাটদের ১৩ শতাংশ পয়েন্টের এই ব্যবধান ১৯৭৪ সালে ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির পর সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে একযোগে একশর বেশি ডেমোক্র্যাট নারী সদস্য এবার প্রতিনিধি পরিষদে দায়িত্ব পালন করবেন।

উচ্চকক্ষ সেনেটেও ডেমোক্র্যাটরা অন্তত ৯টি আসন রিপাবলিকানদের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে আইওয়া, ক্যানসাস, মেইন, নর্থ ক্যারোলাইনা, ওহাইও, সাউথ ক্যারোলাইনা ও টেক্সাস। এতে সেনেটে দলটির আসন দাঁড়িয়েছে ৫৫ থেকে ৫৬টিতে। বিশেষ করে টেক্সাসে দীর্ঘ ৩৮ বছর পর জেমস তালারিকো ৫৪ লাখের বেশি ভোট পেয়ে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেন।

গভর্নর পদের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটরা নতুন করে ৬টি অঙ্গরাজ্য নিয়ন্ত্রণে নোয় এখন প্রায় ৩০টি অঙ্গরাজ্য তাদের হাতে যেতে পারে। এর ফলে মার্কিন জনসংখ্যার প্রায় ৭৫ শতাংশই ডেমোক্র্যাট গভর্নরের অধীনে থাকবেন। সারা দেশে রেকর্ড ১৭ জন নারী এবার গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

বুথফেরত সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ৬৩ শতাংশ ভোটার। দুর্নীতি (৯১%) এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি (৮৯%) ভোটারদের প্রধান বিবেচ্য বিষয় ছিল। ডেমোক্র্যাটদের এই বিশাল জয়ের পেছনে তরুণ ভোটারদের সমর্থনের ৩২ শতাংশ বৃদ্ধি এবং লাতিনো ভোটারদের ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি প্রধান ভূমিকা রেখেছে।

—ইয়াহু নিউজের প্রতিবেদন অবলম্বনে

এএম