হোয়াইট হাউসে পুতিনের দূতের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক, দ্রুত ইউক্রেন চুক্তির আভাস

মেলানিয়া ট্রাম্পের পাশে কিরিল দিমিত্রিয়েভ
বিদেশে এখন
0

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূতের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠকের পরপরই তিনি আশা প্রকাশ করে বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে খুব শিগগিরই একটি চুক্তি হতে পারে। গতকাল (বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর) হোয়াইট হাউসে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

পুতিনের দূত কিরিল দিমিত্রিভের সঙ্গে কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে জানাননি ট্রাম্প। তবে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এটি একটি বড় চুক্তি হতে চলেছে এবং এতে ইউক্রেনের চেয়েও বেশি কিছু অন্তর্ভুক্ত থাকবে... আমি এমনও বলতে পারি যে এটিতে পুরো ইউরোপ যুক্ত হতে পারে। এটি একটি দারুণ চুক্তি হতে যাচ্ছে এবং সবাই এতে সন্তুষ্ট হবে।’ তবে এদিন ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কোনো বৈঠক করেননি বলে জানান ট্রাম্প।

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগে হোয়াইট হাউসে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আয়োজিত এক বিরল অনুষ্ঠানে যোগ দেন পুতিনের দূত কিরিল দিমিত্রিভ ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিরা। ইউক্রেনের রুশ নিয়ন্ত্রিত ওলেশকি শহর থেকে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ছয় দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। রোববার সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়। সেই উদ্যোগকে কেন্দ্র করেই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ইউক্রেনের আইনপ্রণেতা ডেভিড আরাখামিয়া ও দেশটির মানবাধিকার ওমবাডসম্যান দিমিত্রো লুবিনেটস উপস্থিত ছিলেন। উভয় পক্ষই মেলানিয়া ট্রাম্পের কাছে পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উদ্দেশ্যে লেখা চিঠি হস্তান্তর করে।

ইউক্রেন সংঘাত নিরসনে আগামী ১০ ও ১১ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের মধ্যে মার্কিন মধ্যস্থতায় পরবর্তী দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে ব্রাসেলসে ন্যাটো ও ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ট্রাম্পের দূত জ্যারেড কুশনার জানান, ইউক্রেনের নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি ইউরোপীয় স্থিতিশীলতা রক্ষায় ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। কুশনার বলেন, যেকোনো চুক্তিতে প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা থাকতে হবে এবং কোনো দেশের নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর অন্য কারও ভেটো দেয়ার সুযোগ থাকবে না।

মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের হারিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। ক্ষমতার এই পরিবর্তনের পর রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের ডিজেল চুক্তি এবং মস্কোর ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্তের বিষয়ে ডেমোক্র্যাটরা কঠোর অবস্থান নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ক্রেমলিন আশা প্রকাশ করেছে, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও ট্রাম্প শান্তি আলোচনা অব্যাহত রাখবেন।

এএম