বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, রাজধানীর কিং আবদুল্লাহ ফিন্যান্সিয়াল ডিস্ট্রিক্টে অবস্থিত বহুতল আরামকো টাওয়ারের বেশ কয়েকটি তলার জানালার কাচ ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ঘটনায় ভবনে সীমিত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানায়, তারা ইয়েমেনের ইরান-ঘনিষ্ঠ হুথিদের ছোড়া দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র দুটি রিয়াদ ও দেশটির দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল।
রোববার সকালে সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ রাজধানী অঞ্চলে সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে আগাম সতর্কতা জারি করে। এর পরপরই রিয়াদে বেশ কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরে কর্তৃপক্ষ জানায় যে বিপদ কেটে গেছে। হামলার বিষয়ে আরামকো তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি এবং হুথিদের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো বিবৃতি আসেনি।
গত জুলাইয়ে লড়াই নতুন করে শুরু হওয়ার পর থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়েছে হুথিরা। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া বড় যুদ্ধের অংশ হিসেবে এই অঞ্চলে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর জবাবে সৌদি আরবও ইয়েমেনে হুথিদের লক্ষ্যবস্তুতে নিয়মিত বিমান হামলা চালাচ্ছে।
রোববার তেলসমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশেও সতর্কতা জারি করা হয়েছিল, যেখানে ধারানে সৌদি আরামকোর মূল সদর দপ্তর অবস্থিত। এর আগে গত অক্টোবরে আরামকোর প্রধান কার্যালয়ে চালানো এক হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এছাড়া ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো এক হামলায় ১৩ জন নিহত ও তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। নতুন করে এই সংঘাত ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতিকে পুরোপুরি ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। অন্যদিকে সর্বশেষ এই উত্তেজনার এক দিন আগে সানার কাছে সৌদি বিমান হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত হওয়ার দাবি করেছে হুথি নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।





