মঙ্গলবার ইয়েমেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইব্রাহিম হাইদান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বিদেশি শক্তির এই ভূমিকা কেবল অর্থায়ন, অস্ত্র সরবরাহ বা প্রশিক্ষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং আইআরজিসির এক কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত একটি সমন্বিত দল সরাসরি অভিযান পরিকল্পনা ও মাঠপর্যায়ের কমান্ড পরিচালনার কাজ করছে।
ইয়েমেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই বিদেশি বিশেষজ্ঞরা দেশটির ছয়টি প্রদেশে ছড়িয়ে রয়েছেন। তারা হোদাইদা, সানা, সাদা, হাজ্জাহ, আমরান ও আল-খাওখায় অবস্থান করছেন। এসব বিশেষজ্ঞ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন পরিচালনা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, সমরাস্ত্রের যন্ত্রাংশ চোরাচালান, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা পরিচালনা, বিস্ফোরকবাহী ড্রোন-নৌকা ও চালকবিহীন সাবমেরিন তৈরির মতো বিশেষায়িত সামরিক প্রযুক্তিতে হুথিদের সহায়তা দিচ্ছেন।
ইব্রাহিম হাইদান সতর্ক করে বলেন, এই বিদেশি বিশেষজ্ঞদের তৎপরতা বাব এল-মান্দেব প্রণালি ও লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে। হুথিদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মাইক্রোফোন কেবল হুথিদের হাতে থাকে, আর সিদ্ধান্ত লেখা হয় তেহরানে এবং ঘোষণা করা হয় সানায়। আর এর চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে তাইজ ও হোদাইদাসহ বিভিন্ন প্রদেশের সাধারণ মানুষকে।’ এ ছাড়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব অনুযায়ী হুথিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা এবং গোষ্ঠীটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তবে ইয়েমেন সরকারের এসব অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে প্রত্যাখ্যান করেছে হিজবুল্লাহ। বুধবার লেবাননের সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, হিজবুল্লাহ দাবি করেছে যে বিদেশি কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা পরামর্শ ছাড়াই নিজেদের রক্ষা করার মতো যথেষ্ট সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা ইয়েমেনিদের রয়েছে।





