২০১৫ সালে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই এর লক্ষ্যমাত্রা পূরণের অন্যতম প্ল্যাটফর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন বা কপ। প্রশান্ত মহাসাগরের জলবায়ুগত পরিস্থিতি বা এল নিনোর প্রভাবে যখন প্রকৃতির রুক্ষ ও অশান্ত রূপ দেখছে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত, তখন বছর ঘুরে তুরস্কের ঐতিহাসিক শহর আনতোলিয়ায় শুরু হচ্ছে কপের ৩১তম আসর।
এবার সম্মেলনটিকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন জলবায়ুবিদরা। ২০৩৫ সালের মধ্যে বৈশ্বিক বিদ্যুতায়ন ৩৫ শতাংশে উন্নীতকরণ অর্থাৎ বিশ্বের মোট জ্বালানির ৩৫ শতাংশ বিদ্যুৎ থেকে মেটানো, মিথেন গ্যাসের নিঃসরণ হ্রাস এবং ভবন নির্মাণ খাতে শক্তির ব্যবহার ২৫ শতাংশে কমানোর মতো কিছু এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা করবেন প্রতিনিধিরা।
এছাড়াও, প্যারিস চুক্তির অধীনে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ বাবদ যে অর্থ দিতে চেয়েছিল উন্নত রাষ্ট্রগুলো তা আদায়ে এবার উদ্যোগ নেবে সম্মেলনের যৌথ নেতৃত্ব দেয়া দুই দেশ তুরস্ক ও অস্ট্রেলিয়া। মিথেন গ্যাসের নিঃসরণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়ার জন্য সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা।
ডি-৮৪ পলিসি প্ল্যাটফর্মের প্রধান গবেষক সেলিম ইলদিরিম বলেন, ‘২০২১ সালে কপের ২৬ তম সম্মেলনে মিথেন গ্যাসের নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে একটি ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু এর বাস্তবায়ন এখনও হয়নি। অথচ কার্বন ডাইঅক্সাইডের পর মিথেনই জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় কারণ। এর নিঃসরণ কমানো গেলে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ধীরে ধীরে কমে আসবে।’
কপের ৩১তম সম্মেলনে মঙ্গলবার তুরস্কে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রতিবছর বাংলাদেশের ক্ষতির পরিমাণ তুলে ধরে এবারের সম্মেলনে লস অ্যান্ড ড্যামেজে অর্থের পরিমাণ বাড়ানোর দাবি জানাবে ঢাকা।
কপ সম্মেলন চলবে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত। সভাপতিত্ব করবে তুরস্ক। আর আনুষ্ঠানিক আলোচনার নেতৃত্ব দেবে অস্ট্রেলিয়া।





