ইরানের পরমাণু কর্মসূচির তথ্য চেয়ে ২ কোটি ডলারের পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের তেহরানের একটি সড়কে ডোনাল্ড ট্রাম্প, বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু, জেডি ভ্যান্স ও স্টিভ উইটকফের ছবি সংবলিত ব্যানার
বিদেশে এখন
0

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সম্পর্কে তথ্য দেয়ার জন্য সর্বোচ্চ ২০ মিলিয়ন বা ২ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস কর্মসূচির আওতায় তথ্যদাতাকে প্রয়োজনে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার বা পুনর্বাসনের প্রস্তাবও দেয়া হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বোমা হামলার পর ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলো ‘পুরোপুরি ও সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস’ হয়ে গেছে। অন্যদিকে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো উদ্দেশ্য তাদের নেই।

এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র ও নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা সরঞ্জামের চলাচল ঠেকাতে ওয়াশিংটনের তৎপরতা জোরদারের লক্ষ্যে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হচ্ছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, টাস্কফোর্স আয়রন গেট নামের এই দল ফ্লোরিডার টাম্পা থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে মিলে কাজ করবে। অস্ত্রের চলাচলের পাশাপাশি দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য সরঞ্জাম এবং অবৈধ আয়ের উৎসগুলোর দিকেও নজর দেবে এই টাস্কফোর্স। সেন্টকমের হিসাব অনুযায়ী, ইরানের বন্দরগুলোতে তাদের নৌ-অবরোধের কারণে দেশটি ২৫ বিলিয়ন ডলারের (২ হাজার ৫০০ কোটি ডলার) বেশি মূল্যের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করতে পারেনি।

কয়েক মিলিয়ন ডলারের এই পুরস্কারের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট স্থাপনা, সরঞ্জাম ও যুক্ত ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্যের জন্য এই অর্থ দেয়ার প্রস্তাব করা হচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সুরক্ষা সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা ইরান মেনে না চলায় পারমাণবিক সেন্ট্রিফিউজের মতো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের উৎপাদন ও মজুত সম্পর্কে সংস্থাটির তথ্যের ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়েছে।

সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদনের জন্য সেন্ট্রিফিউজ প্রয়োজন হয়। এই ইউরেনিয়াম বেসামরিক কাজে চুল্লির জ্বালানি তৈরিতে ব্যবহার করা যায়, আবার প্রায় ৯০ শতাংশ বা তার বেশি মাত্রায় সমৃদ্ধ করা হলে তা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতেও ব্যবহার করা সম্ভব।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আবারও বড় ধরনের হামলা শুরু করতে পারে বলে জোরালো জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তবে ভোটের আগে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, এমন কিছু করার ক্ষেত্রে তার ‘কোনো তাড়াহুড়ো নেই’। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগের দিন ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে হয়তো ইরানের পরমাণু কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের পেছনে ছুটতে হতে পারে’। ট্রাম্প বলেন, এটি ‘বড় কোনো বিষয় নয়’ এবং ‘এক ঘণ্টার’ মধ্যেই তা করা সম্ভব। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে এই সন্দেহভাজন ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন তিনি।

তবে ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দুজনই বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রতি জনগণের বিরোধিতা চলতি সপ্তাহের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাদের রিপাবলিকান পার্টির বড় পরাজয়ে ভূমিকা রেখেছে। এর ফলে ধারণা করা হচ্ছে, হোয়াইট হাউস হয়তো এই সংঘাত আর বাড়াতে চাইবে না।

শুক্রবার ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, ইরানের অর্থনীতি ও সামরিক বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির কারণে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আট মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটাতে আগ্রহী। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি। তারা চুক্তি করতে মরিয়া হয়ে আছে।’

মঙ্গলবার কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, উভয় পক্ষই ‘আমাদের দেয়া ধারণা ও প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে’ এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ব্যাপারে তারা আশাবাদী। ইরানের আলোচকেরা মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সাতটি শর্ত পূরণ করলে দুই দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

এর আগে গত জুনে যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছেছিল। তবে জাহাজে ইরানের হামলা আবার শুরু হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় অবরোধ আরোপের পর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সেই চুক্তি ভেস্তে যায়।

এএম