কয়েক দশক ধরে সহিংসতায় জর্জরিত হলেও, পাকিস্তানের পেশোয়ারে রাজনৈতিক অস্থিরতার ঘটনা বিরল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারামুক্তি ইস্যুতে খাইবার পাখতুনখোয়ার রাজধানীও এবার ইসলামাবাদের চক্ষুশূল।
নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নানা উত্থান-পতন, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সংঘাত এবং বিভিন্ন সময় রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে সরকারবিরোধী মিছিলে নেতৃত্ব দেয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কমতি হয়নি পেশোয়ারে। ইসলামাবাদ-পেশোয়ার সম্পর্কে বরাবরই ছিল বোঝাপড়ার আবহ। পরিস্থিতি বদলে গেলো রোববার, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি প্রদেশটিতে গভর্নরের শাসন ও জরুরি অবস্থা জারির পর।
পাকিস্তান খাইবার পাখতুনখোয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্ডি বলেন, ‘খাইবার পাখতুনখোয়ার জনতা প্রেসিডেন্টের ঘোষণাকে স্বাগত জানায় এবং প্রদেশটিতে শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির নতুন যাত্রা শুরু হবে বলে আশা করে। সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সহাবস্থান না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে খাইবার পাখতুনখাওয়ার জনগণ। প্রশাসনের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সন্ত্রাসীদের মোকাবিলা করবে এবং সন্ত্রাসী নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করবে।’
আরও পড়ুন:
ইমরানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদ ঘেরাওয়ে দেশব্যাপী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন খাইবার পাখতুনখোয়ার নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি। কেন্দ্রীয় পার্লামেন্ট ও মন্ত্রিসভার অনুমোদন সাপেক্ষে স্থগিত হয় অঞ্চলটির প্রাদেশিক সরকারব্যবস্থা; সোহেল আফ্রিদিসহ পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ- পিটিআইয়ের আট শীর্ষ নেতাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। পুরো প্রদেশে গভর্নরের শাসন এবং ১২ জেলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণার পরপরই পেশোয়ারের পথে পথে কন্টেইনার ফেলা হয়, যানচলাচলও নিয়ন্ত্রিত।
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘কন্টেইনার বসিয়ে সব রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। রাস্তাগুলো কেন বন্ধ? জনগণ তো ওদেরকেই ভোট দিয়েছে। গণতন্ত্র কোথায়? সংবিধান কে বাস্তবায়ন করছে না? সংবিধান বাস্তবায়ন করা না হলে সরকারের উচিত সেটি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। তা না করে কেন জনগণকে অসম্মান করা হচ্ছে?’
অন্য একজন বলেন, ‘সবেমাত্র কাজের জন্য বাড়ি ছেড়েছিলাম। তার মধ্যে এই জরুরি অবস্থা। আমরা আর কিছু না, শান্তি আর স্থিতিশীলতা চাই। কোনো দলকেই সমর্থন করি না, শুধু শান্তি চাই।’
পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী জরুরি অবস্থার সময় প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ক্ষমতা গ্রহণ করতে পারে সরকার। খাইবার পাখতুনখোয়ায় পিটিআই সরকারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ কেন্দ্রের। যদিও, পিটিআইয়ের পাল্টা অভিযোগ- সন্ত্রাসবাদ দমনে প্রয়োজনীয় তহবিল-সরঞ্জামসহ কোনো সহযোগিতাই দেয়নি ইসলামাবাদ।





