ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল যুদ্ধ: সংঘাত থামাতে সক্রিয় চীন–রাশিয়া–ফ্রান্স

বিস্ফোরণের পর আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যাচ্ছে
মধ্যপ্রাচ্য
বিদেশে এখন
0

যুদ্ধের ১১তম দিনে রাজধানী তেহরানে ব্যাপক বোমা হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। যা চলমান এ সংঘাতে সবচেয়ে তীব্র মাত্রার এয়ার স্ট্রাইক-এমন দাবি আল জাজিরার। জবাবে ইসরাইলের হাইফা ও তেল আবিব এবং উপসাগরীয় দেশ বাহরাইন, ইরাক ও সৌদি আরবে পাল্টা হামলা করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার লক্ষ্য অর্জনে সফল হলে খুব শিগ্‌গিরই ইরানের সঙ্গে চলমান এ সংঘাতের অবসান হবে। জবাবে আইআইজিসি জানিয়েছে, ওয়াশিংটন নয়, এ যুদ্ধের পরিণতি ঠিক করবে তেহরান। আর সংঘাত থামাতে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে চীন, রাশিয়া ও ফ্রান্স।

আজ (মঙ্গলবার, ১০ মার্চ) ভোরের আলো ফোটার আগে, তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলে শোনা যায় বিস্ফোরণের বিকট শব্দ। বিমান থেকে একের পর এক বোমা নিক্ষেপ করা হয়ে তেহরানের পূর্ব-পশ্চিম ও দক্ষিণ প্রান্তে। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার দাবি, গেল ১১ দিনের মধ্যে এটাই ছিল সবচেয়ে তীব্র এয়ার স্ট্রাইক।

জ্বালানি স্থাপনায় হামলার জবাবে গতকাল (সোমবার, ৯ মার্চ) ইরানের ব্যাপক প্রতিশোধমূলক হামলার পর তেহরানকে লক্ষ্য করে সোমবার রাতভর অভিযান চালায় ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের কারাগ ও ইসফাহানের গভর্নরের অফিস লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে হামলা। বোমা হামলা হয়েছে তাবরিজেও। এছাড়াও, বৈরুত ও দক্ষিণ লেবাননে চলছে হামলা, অঞ্চলটি সেনা উপস্থিতি আরও বাড়িয়েছে আইডিএফ।

আরও পড়ুন:

জবাবে সোমবার রাতে ইসরাইলের হাইফায় দফায় দফায় হামলা করেছে ইরান। সাইরেনের শব্দে কেঁপেছে বন্দর নগরীর চারপাশ। থেমে থেমে হামলা হয়েছে রাজধানী তেল আবিবেও। এছাড়াও, উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে বাহরাইনের রাজধানী মানামায় ইরানি ড্রোনের আঘাতে প্রাণ গেছে এক নারীর। হামলার কবলে পড়েছে ইরাকের কুর্দিস্তানে আরব আমিরাতের কনস্যুলেট। পূর্বাঞ্চলের আল আল খারজের দিকে ধেয়ে আসা দুটি ব্যালেস্টিক মিসাইল প্রতিহতের দাবি সৌদি আরবের।

যুদ্ধের ১১ দিন পার হলেও হামলার ব্যাপকতা কমাচ্ছে না কোনো পক্ষই। এমন প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য পূরণ হলে শিগ্‌গিরই থেকে যাবে এই সংঘাত। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনিকে নির্বাচিত করার অসন্তোষ জানিয়ে, তাকেও সরিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আর হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখলে ইরানকে এরচেয়েও ‘বিশ গুণ বেশি’ আঘাত করা হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।

প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্পকে উল্টো হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস। আইআরজিসি’র দাবি, ওয়াশিংটন নয়, এ যুদ্ধের পরিণতি ঠিক করবে তেহরান। আর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা বা সমঝোতা-এমন কোনো ধরনের সমাধানের পথ খুঁজছে না ইরান।

তবে, তীব্র এ সংঘাত থামাতে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে চীন, রাশিয়া ও ফ্রান্স।

জেআর