রাজধানী তেহরানের খুব কাছে কারাজ সেতুতে যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ হামলায় প্রাণ হারিয়েছে বেশ কয়েকজন। নিহতদের সবাই বেসামরিক নাগরিক। আহত শতাধিক মানুষ। যা আলবোর্জ প্রদেশে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প ছিল। যেটি মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে উঁচু সেতু হিসেবে পরিচিত।
সেতু ধ্বংসের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, খুব বেশি দেরি হওয়ার আগেই ইরানকে চুক্তি করতে হবে। তিনি জানান, ইরানের সবচেয়ে বড় সেতুটি হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে।
জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিক পতনেরই বার্তা। এসব করে ইরানকে পিছু হটাতে পারবে না বলেও দৃঢ়ভাবে জানান তিনি।
আরও পড়ুন:
এদিকে যেকোনো ধরনের আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য কমান্ডারদের সবসময় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি। তিনি জানান, ইরানে স্থল অভিযান চালানোর চেষ্টা করলে শত্রুপক্ষের কাউকে জীবিত রাখা হবে না।
ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতিমি বলেন, ‘রাস্তায় লাখ লাখ মানুষ কাঁধে পতাকা নিয়ে শত্রুদের এ বার্তা দিচ্ছে যে, ইরান ঐক্যের প্রতীক। তাদের সবাইকে অনেক ধন্যবাদ। এই ইরানিদের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করতেও প্রস্তুত আছি। এই অনুভূতি এখন প্রতিটি সেনার মধ্যেই আছে।’
শত্রুপক্ষ মাথা নত করে আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার জানিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ধ্বংস করতে আরও ব্যাপক বিধ্বংসী ও ধ্বংসাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র এবং সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে ইরানের।
আরও পড়ুন:
এদিকে ইরানের পাশাপাশি লেবাননের হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর সঙ্গে যৌথ হামলা চালিয়ে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী। ইসরাইলি ভূখণ্ডে সিরিজ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তারা। ইসরাইলি সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন হুতির সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র। এছাড়া, সৌদি, বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।
তেল আবিবে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে উঠার সঙ্গে সঙ্গেই আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটতে থাকে ইসরাইলিরা। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তেল আবিবসহ এলিটা শহরের বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া ইসরাইলের নাহারিয়া শহরে রকেট হামলা ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল। ইরান ও হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর হামলায় এখন পর্যন্ত ইসরাইলে প্রাণ হারিয়েছে ১৯ জন।
দাতব্য সংস্থা রেড ক্রস জানিয়েছে, এই মুহূর্তে ইরানে জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার চাহিদা বাড়ছে দ্রুতগতিতে। এদিকে যুদ্ধে সহায়তা করতে রসদও ফুরিয়ে যাচ্ছে সংস্থাটির। তহবিলের অভাব, আমদানিতে বিলম্ব সেই সঙ্গে বাড়ছে খরচ।
ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে রুশ কর্মীদের সরিয়ে নেয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছে রাশিয়া। যুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনার মাধ্যমে শান্তির পথে আসার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এছাড়া ইরানকে প্রতিবেশি আরবরাষ্ট্রগুলোতে হামলা বন্ধ রাখারও আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।





