আইওয়া থেকে ওহাইও, আলাস্কা থেকে কানসাস- ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় সরগরম যুক্তরাষ্ট্র। নিজেদের পুরনো দুর্গ ধরে রাখতে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি, এমনকি একে অপরকে ব্যক্তিগত আক্রমণেও পিছপা হচ্ছেন না প্রার্থীরা।
আইওয়া ও কানসাস রিপাবলিকানদের দুর্গ দাবি করে এই দুই অঙ্গরাজ্যে সমাবেশ বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু প্রচারণার শেষ দু’দিনে সেই আইওয়া ও কানসাসেই ছুটে যান তিনি। দুই জনসভাতেই বিরোধী ডেমোক্র্যাট শিবির বিশেষ করে মিশিগানের রিপাবলিকান প্রার্থী এল- সাইদকে তুলোধুনো করেন ট্রাম্প।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘প্রতিটি অঙ্গরাজ্যেই বিরোধীরা চরমপন্থি ও উগ্রপন্থীদের সমর্থন দিয়েছে। তারা প্রকাশ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা শিথিল ও লাখ লাখ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশাধিকার দেয়ার বিষয়ে কথা বলছেন। যে দল আমেরিকানদের ঘৃণা করে সেই দলকে দেশের নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বের সুযোগ দেয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।’
আরও পড়ুন:
কানসাসের আরেক জনসভায় ট্রাম্প ঘোষণা দেন, অঙ্গরাজ্যের ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষের বাড়ি কেনার প্রক্রিয়াকে সহজ করতে ২০২৭ সালে দুই মার্কিন ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান ফ্যানি মে ও ফ্রেডি ম্যাক বন্ধকী ঋণ খাতে চার দশমিক তিন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। এসময় আগামী দু’বছর কংগ্রেসের দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে ভোটারদের সমর্থন চান তিনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আগামী দুই বছর যুক্তরাষ্ট্রকে আরও সমৃদ্ধ ও নিরাপদ করতে রিপাবলিকানদের পাশে থাকুন। আমাদের মূল লক্ষ্যই হলো আমেরিকাকে বিশ্বে মহান করে গড়ে তোলা। সবাই ভোটকেন্দ্রে যাবেন। বিজয়ের ব্যাপারে আমরা আত্মবিশ্বাসী।’
বিপরীতে ভোটারদের মন জয়ে শেষ দিনও একের পর এক অঙ্গরাজ্য চষে বেড়াচ্ছেন বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা। সুইং ভোটারদের সমর্থন আদায়ে বাড়তি নজর তাদের। এদিকে শেষ দিনের প্রচারণাতেও আলোচনার তুঙ্গে মিশিগানের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এল- সাইদ। একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে এল সাইদের পরিবর্তে আসনটির রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের প্রতি সমর্থন জানিয়ে খবরের শিরোনাম হয়েছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা হ্যালি স্টিভেন্স।
তিনি বলেন, ‘এল সাইদ তার প্রচারণায় বলেছিলেন তার প্রচারণায় আমার কোনো স্থান নেই এবং আমার দূরে থাকা উচিত। হয়তো তিনি ঠিকই বলেছেন। এ কারণেই মিশিগানের রিপাবলিকান সিনেটর প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন জানাচ্ছি।’
মাইক রজার্সকে সমর্থন জানানোয় হ্যালি স্টিভেন্সকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন স্বয়ং ট্রাম্পও।
আরও পড়ুন:
তিনি বলেন, ‘এল সাইদ বিপজ্জনক। তিনি মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য। হ্যালি স্টিভেন্সকে ব্যক্তিগতভাবে না চিনলেও তার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তিনি মিশিগানের মানুষের কথা ভেবেছেন।’
শেষ মুহূর্তে এসে হ্যালি স্টিভেন্সের সমর্থন হারানোয় খুব একটা চিন্তিত নন এল-সাইদ। প্রচারণার শেষ দিন কৃষ্ণাঙ্গদের সমর্থন আদায়ে একটি গির্জায় যান তিনি।
এল সাইদ বলেন, ‘আমি স্টিভেন্সকে নিয়ে ভাবছি না। মিশিগানে এক কোটি মানুষের বাস। আমি তাদের কথা ভাবছি। তাদের তাদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছি। ভোটাররা জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাদের জীবনমান উন্নয়নে কিছু করতে চাই।’
কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যমে আল জাজিরা বলছে, ব্যক্তিগত বিরোধ ও ইসরাইল ইস্যুতে বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণেই মূলত এল- সাইদকে সমর্থন দেয়া থেকে সরে এসেছেন হ্যালি স্টিভেন্স। আগস্টের প্রাইমারি ইলেকশনে এল- সাইদের কাছে হেরেছিলেন হ্যালি।
আরও পড়ুন:
এদিকে প্রার্থীরা প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি দিলেও প্রতিনিধি বাছাইয়ে জ্বালানির ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে ভাবছেন ভোটাররা। অনেকে বলে-কয়েই বিরোধী ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের ভোট দেয়ার কথা জানিয়েছেন।
ভোটারদের মধ্যে একজন বলেন, ‘সবাই একে অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছে। কিন্তু দিন শেষে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আমরা সাধারণ মানুষ।’
অন্য একজন বলেন, ‘ট্রাম্পকে থামাতে হবে। তাকে থামানোর একমাত্র উপায় হলো ডেমোক্র্যাটদের ভোট দেয়া।’
আনুষ্ঠানিক ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই আগাম ভোট দিতে ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভিড় করছেন মার্কিনরা। এখন পর্যন্ত দেশটির ২১ কোটি ভোটারদের মধ্যে আগাম ভোট দিয়েছেন ৫ কোটিরও বেশি নাগরিক। তবে ভোটগ্রহণের পর ফল কখন জানা যাবে তা নির্ভর করবে অঙ্গরাজ্যগুলোর ভোট গণনা ও ফল প্রকাশের প্রক্রিয়ার ওপর। আনুষ্ঠানিক ফল আসতে কয়েক দিন, এমনকি কয়েক সপ্তাহও লাগতে পারে।





