মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্প প্রশাসনের পতন নাকি নতুন করে আধিপত্য বিস্তার করবে সেদিকেই নজর বিশ্ববাসীর। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের দু’বছর পর সসম্মানে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ ডেমোক্র্যাটদের। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দু’দলের ওপর বড় প্রভাব রাখবে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে নিজেদের সব আসন ধরে রাখার পাশাপাশি রিপাবলিকানদের চারটি আসন দখল করলেই বাজিমাত করবে ডেমোক্র্যাটরা।
এবার সিনেট নির্বাচনের ফলাফল ঘুরিয়ে দিতে পারে রিপাবলিকান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য। এই তালিকায় রয়েছে নর্থ ও সাউথ ক্যারোলাইনা, মিশিগান, টেক্সাস, কানসাস, আইওয়া, আলাস্কাসহ ১১টি অঙ্গরাজ্য। যদিও চলতি বছরের শুরুতে কেউ ভাবেনি, ডেমোক্র্যাটরা তাদের নির্বাচনি মানচিত্র এভাবে প্রসারিত করবে।
এই ১১টি অঙ্গরাজ্যে নিজেদের আসন ধরে রাখতে ইলন মাস্কের সহায়তায় বিজ্ঞাপনের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে রিপাবলিকানরা। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, ইরান যুদ্ধ ও দুর্নীতি নিয়ে ভোটারদের হতাশাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বিরোধী ডেমোক্র্যাট দল।
আরও পড়ুন:
নর্থ ক্যারোলাইনার সিনেট আসনটিই হাতবদল হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। ধারণা করা হচ্ছে ২০০৮ সালের পর এখানে ফের জয়ী হতে পারে ডেমোক্র্যাটরা। আভাস পেয়ে রিপাবলিকানরা শেষ মুহূর্তে প্রচারণা খরচও কমিয়ে দেয়। একইসঙ্গে সাউথ ক্যারোলাইনাও রিপাবলিকানদের হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ভোটারদের উৎসাহিত করতে দু’বার অঙ্গরাজ্যটি সফর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ওহাইও অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী শেরড ব্রাউন রিপাবলিকান জন হাস্টেডের চেয়ে ৫ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন। ডেটা সেন্টার, এপস্টিন ফাইল ও দুর্নীতি ইস্যুতে কঠোর সমালোচনার মুখে রিপাবলিকানরা। এছাড়া রিপাবলিকান গভর্নর প্রার্থী বিবেক রামাস্বামীও সম্প্রতি বেশ সমালোচিত হয়েছেন। এদিকে ৩২ বছর পর টেক্সাসের ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। জনমত জরিপ ও আগাম ভোটে এমনই ইঙ্গিত মিলেছে। কৃষ্ণাঙ্গ, ল্যাটিন ও এশীয় ভোটারদের কাছ থেকে বিপুল সমর্থন পাচ্ছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী।
এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ সিনেট আসন মিশিগান। অঙ্গরাজ্যটিতে প্রথম মুসলিম সিনেট হিসেবে লড়ছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আব্দুল এল-সাইদ। মিশিগানে জন্ম নেয়া মিশরীয় বংশোদ্ভূত এল-সাইদ-এর ধর্ম ও জাতি নিয়ে রিপাবলিকানদের আক্রমণের শিকার হয়েছেন বারবার। এছাড়া গ্যাসের উচ্চ দাম ও কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ মিশিগান ভোটারদের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে।
আরও পড়ুন:
শেষ মুহূর্তে অপ্রত্যাশিত মোড় নিতে পারে আলাস্কা ও কানসাসের ভোট। এই দু’টি অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। ১৯৮৮ সালের পর টেক্সাসে এবং ১৯৩২ সালের পর কানসাসে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হননি।
এদিকে মেইনে, আইওয়া অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা রিপাবলিকানদের চেয়ে বেশ ভালো ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। মেইনেকে ডেমোক্র্যাটদের অন্যতম সেরা আসন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া নিউ হ্যাম্পশায়ারে নিজের অবস্থান আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ক্রিস পাপাস। জর্জিয়াতে নির্বাচনি তহবিল সংগ্রহ ও ব্যয়ের দিক থেকেও রিপাবলিকানদের থেকে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা।
নির্বাচনের শেষ মুহূর্তের জরিপে দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে রিপাবলিকান সিনেটর রয়েছেন এমন পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এগিয়ে। আর ৬টি অঙ্গরাজ্যে দুই দলের প্রার্থীর অবস্থান প্রায় সমান।





