আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে তৎপরতা; কী পরিকল্পনায় এগোচ্ছে সরকার?

বাংলাদেশ পুলিশের লোগো; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
বিশেষ প্রতিবেদন
0

ধীরে ধীরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। পুলিশে কাজের গতি বেড়েছে, টহল বাড়ার কারণে কমেছে ছিনতাই, বখাটেদের দৌরাত্ম্য; অরাজকতা বন্ধে করা হচ্ছে মব-সন্ত্রাসীদের তালিকা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলছেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানো।

২০২৪-এর ৫ আগস্টের পর কিছুটা ছন্দ হারায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। অপরাধে জড়িত পুলিশের কিছু কর্মকর্তা সেসময় চলে যান আত্মগোপনে। বাড়তে থাকে খুন, ছিনতাই, ডাকাতি থেকে শুরু করে মব-সন্ত্রাসসহ নানা অপরাধের মাত্রা। ফলে বিদায় বছরজুড়ে জনমনে ছিল অস্বস্তি।

এরপর এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি, গুরুত্ব দেয়া হয় আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে। সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা তৈরির কাজ শুরু করে মন্ত্রণালয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিদায় বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাসে ডাকাতি, খুন, নারী ও শিশু নির্যাতন, অপহরণ, পুলিশের ওপর হামলাসহ বিভিন্ন অপরাধে মোট মামলা হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৩৮৩টি। এর মধ্যে খুন হয়েছে ২ হাজার ৬১৬টি। পুলিশের ওপর হামলায় মামলা ৪১৯টি, নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা ১৫ হাজার ৪৯টি। এরপরই আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কঠোর হয় নবগঠিত সরকার।

নগরবাসী মনে করছেন, বিএনপির রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখা ও নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন হলে সামাজিক অস্থিরতা হ্রাস পাবে; কমবে অপরাধ—বাড়বে জবাবদিহিতা।

আরও পড়ুন:

তারা জানান, বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র ১ মাস হলেও পূর্বের চেয়ে কিছুটা নিরাপত্তায় কিছুটা উন্নতি হয়েছে। সরকার আসার পর মব কালচার থেকে কিছুটা বের হয়ে আসার ব্যাপারটাকেও ইতিবাচকভাবে দেখছেন কেউ কেউ। এ বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে প্রশ্ন ছিল জনগণের বন্ধু হতে কোন কৌশলে আগাচ্ছেন তারা?

পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘আইনের শাসন বাস্তবায়ন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য পুলিশ কাজ করবে। বেশিরভাগ নাগরিক মব সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত নয়। মূল মব সৃষ্টিকারীদের তালিকা তৈরি করছি, তারা যত ক্ষমতাধরই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

তিনি জানান, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় থানাকে ঘিরে কোনো নাগরিকের আর অভিযোগ থাকবে না। পুলিশের এ মহাপরিদর্শক বলেন, ‘আমরা প্রত্যেক সদর থানাকে “জিরো কম্পেইন” থানা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’

অপরদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ১৮০ দিনের একটি খসড়া পরিকল্পনায় আইনশৃঙ্খলার উন্নতি হয়েছে। তিনি বলছেন, বাহিনীতে ধীরে ধীরে আস্থা ফিরে আসছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের প্রধানতম অগ্রাধিকার হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করা, জনমনে স্বস্তি ফেরানো এবং দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। পুলিশের যে ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল, সেই ভূমিকায় আমরা আবার অবতীর্ণ হয়েছি।’

অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশবাহিনী সংকল্পবদ্ধ, পাশাপাশি বড় ত্যাগ তারা প্রস্তুত বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এসএইচ