বাবার পথে ছেলের পদচারণা; পাতলী খালে কোদাল চালালেন প্রধানমন্ত্রী

পাতলী খালে কোদাল চালিয়ে পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী
দেশে এখন
3

পিতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালীর ঐতিহাসিক পাতলী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ৪৮ বছর আগে এ খাল খননের কাজ শুরু করেছিলেন জিয়াউর রহমান। আজ সেই পথ অনুসরণ করেই এ খাল পুনঃখননের কাজ শুরু হলো তারেক রহমানের হাত ধরে।

আজ (শনিবার, ১৩ জুন) সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে তিনি নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে খালটির পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।

এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশাসনের প্রতিনিধিরা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি বিশেষ ঐতিহাসিক তাৎপর্য বহন করে। কেননা ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে স্থান থেকে কোদাল হাতে পাতলী খাল খনন কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন, প্রায় ৪৮ বছর পর ঠিক সেই স্থান থেকেই পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তার পুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধন শেষে তিনি সেখানে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৯ সালের নভেম্বর মাসে কৃষিকাজ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে জিয়াউর রহমান নিজ উদ্যোগে পাতলী খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। সেই সময় তিনি খালের পাড়ে একটি খেজুর গাছও রোপণ করেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই গাছটি আজও অতীতের স্মৃতির সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার প্রথম কক্সবাজার সফর। শনিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে তিনি কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতারা তাকে স্বাগত জানান।

দিনব্যাপী প্রায় ১২ ঘণ্টার সফরে প্রধানমন্ত্রী ১১টি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তার আগমনকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন:

সফরসূচি অনুযায়ী, পাতলী খালের পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য দেন। এরপর তিনি ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক পরিদর্শন এবং মালুমঘাট সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

পরে তিনি পেকুয়া উপজেলায় গিয়ে জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। একই সফরে পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলা প্রতিষ্ঠার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনেরও কথা রয়েছে।

বিকেলে চকরিয়া বাস টার্মিনাল এলাকায় স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জনসভাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

এছাড়া জনসভা শেষে তিনি কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্র সৈকত এলাকা পরিদর্শন করবেন। সফরের শেষ পর্যায়ে হোটেল লং বীচের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সুধী সমাবেশে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।

সব কর্মসূচি শেষে রাত প্রায় ১০টার দিকে আকাশপথে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে কক্সবাজারজুড়ে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন পর এমন উচ্চপর্যায়ের রাষ্ট্রীয় সফরকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দা ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জেলার সর্বত্র এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

এসএইচ