পর্যটকদের পদচারণায় প্রাণ ফিরেছে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে

সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের ভিড়
এখন জনপদে
ভ্রমণ ও পর্যটন
0

আবারও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে সিলেটের পর্যটন ব্যবসা। বিশেষ করে অক্টোবরের প্রথম থেকে সিলেটমুখী পর্যটকদের ঢল ছিলো চোখে পড়ার মতো। ফলে বিভাগের পর্যটন সংশ্লিষ্টদের ফিরেছে সুদিন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুধু অক্টোবরেই এই অঞ্চলে পর্যটনখাতে বাণিজ্য হয়েছে অন্তত ২০০ কোটি টাকা। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলে ব্যবসার সুযোগ আরও বাড়বে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

পাহাড়, ঝর্ণা, চা বাগানের পাথরের অপরূপ সৌন্দর্যে সিলেটে রয়েছে শাহজালাল ও শাহপরাণসহ আউলিয়াদের মাজার। যান্ত্রিক জীবনের সব ক্লান্তি ভুলে সরকারি ছুটিতে সারা দেশ থেকে আসা পর্যটকদের ভরপুর থাকে সিলেট অঞ্চল।

সরকারি ছুটির বাইরেও পাহাড় আর মেঘের লুকোচুরি দেখতে জাফলং ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর লালাখাল আর চা বাগানগুলোতে ভিড় জমিয়েছেন নানা বয়সী মানুষ। পরিবার পরিজন আর বন্ধু-বান্ধব নিয়ে প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য উপভোগে মাতোয়ারা সকলে।

স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘এবার সিলেটে অনেক মানুষ আসছে, আমাদেরও ভালো লাগছে, আমরা চাই সিলেটে সবাই আসুক, ঘুরুক। আর সিলেটের নিরাপত্তা আশা করি অন্যান্য সময় থেকে এবার অনেক ভালো ছিল।’

আরও পড়ুন:

পর্যটকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘সাদা পাথরে গেলাম, জাফলংয়ে গেলাম, লাকাতুরা, মালনিছড়া বিভিন্ন জায়গায় যেখানে দাঁড়িয়ে আছি এখানে এখনো তো প্রচুর মানুষ রয়েছে।’

জেলার প্রায় ৫০০ হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের অধিকাংশই এখন পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত। ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, গেল পূজার সময় সরকারি ছুটিতে শুধু সিলেট পর্যটন খাত থেকে অন্তত ২০০ কোটি টাকার ওপর বাণিজ্য করেছেন বৃহত্তর সিলেটের ব্যবসায়ীরা। পর্যটন স্পট ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করতে পারলে সামনের শীত মৌসুমে ব্যবসা আরও কয়েকগুণ বাড়বে এমন মন্তব্য তাদের।

সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ বলেন, ‘ফাইভ স্টারে আপনি থাকতে চান, আপনার অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো, আপনি আসতে পারতেছেন। আপনি ৫০০ টাকার রুমে থাকতে চান, তাও আসতে পারতেছেন। আমাদের একোমোডেশন ইজ ওকে।’

মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সহ-সভাপতি মো. আব্দুল জলিল বলেন, ‘সিলেটের হোটেল, মোটেল, পর্যটন, স্পোর্টগুলা যারা রেস্টুরেন্টের মালিক রয়েছেন তারা লাভবান হবেন। ১৫০ থেকে ২০০ কোটি টাকার এইখানে প্রায় পর্যটকের কাছ থেকে ব্যবসায়ীরা আয় করার সম্ভাবনা রয়েছে।’

আরও পড়ুন:

আর বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, সিলেটের পর্যটন উন্নয়নের জন্য এরইমধ্যে অনেক পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে তার আগে মহাসড়ক এবং সিলেটের গ্রামীণ সড়কের অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ তা বাস্তবায়নের কথাও জানান তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘পর্যটকদের সহায়ক ফ্যাসিলিটিজ চুরির জন্য আমরা পর্যটন কেন্দ্রিক বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নিচ্ছি। সিলেট বিভাগের গ্রামীণ রাস্তাঘাট উন্নয়নের জন্য প্রায় ৫৩২৬ কোটি টাকার একটা প্রকল্প ইনশা আল্লাহ আগামী দিনে একনেকে উঠবে।’

সিলেট বাংলাদেশ পর্যটনের এক অপার সম্ভাবনাময় অঞ্চল। সড়ক ও রেল পথ উন্নয়ন, পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয়দের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে সিলেট হবে দেশের শ্রেষ্ঠ পর্যটন কেন্দ্র—বলছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।

এসএস