বৃষ্টির পানি আর নারীদের শ্রমে বদলাচ্ছে উপকূলের কৃষি

সাতক্ষীরার কৃষি জমি
কৃষি
এখন জনপদে
0

সাতক্ষীরার উপকূলীয় লবণাক্ত মাটিতে কৃষি কাজে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছেন নারীরা। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ আর আধুনিক কৃষিপদ্ধতি কাজে লাগিয়ে নানা ধরনের সবজি ফলাচ্ছেন তারা। সবজির চারা বাঁচানোই যেখানে ছিল কঠিন, সেখানে এখন বাড়ির আঙিনায় গড়ে উঠেছে সবজির খামার।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বদলে যাচ্ছে উপকূলের প্রকৃতি। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত আর সমুদ্রের লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশে বাড়ছে মাটির লবণাক্ততা। কোথাও কৃষিজমিতে জমছে নোনা পানি, কোথাও দেখা দিচ্ছে সুপেয় পানির সংকট। ফলে চাষাবাদে প্রতিনিয়ত প্রতিকূলতার মুখে পড়ছেন উপকূলের মানুষ।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের কুলতলি গ্রামের দিপীকা রাণী। একসময় লবণাক্ত মাটিতে সবজি চাষ করতে গিয়ে বারবার ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। তবে প্রশিক্ষণ আর আধুনিক কৃষিপদ্ধতিতে বদলে গেছে চিত্র। বাড়ির আঙিনায় পুকুর কেটে সংরক্ষণ করছেন বৃষ্টির পানি। সেই পানি ব্যবহার করে চাষ করছেন নানা ধরনের সবজি।

সবজি চাষি দিপীকা রাণী বলেন, ‘নদী ভাঙন হয়, অতি যখন বৃষ্টি ঝড় বন্যা হয়, তখন আমাদের নদী ভাঙনের সমস্যা হয়। তারপর মাটিতে লবণ ওঠে আমরা শাকসবজি ঠিকমতো আমরা লাগাতে পারতাম না।’

দিপীকার এই উদ্যোগ দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন গ্রামের অন্য নারীরাও। মাচা, বেড, মালচিংসহ ১২টি পদ্ধতিতে সবজি চাষ করছেন তারা। উৎপাদন করছেন বেগুন, ঢ্যাঁড়স, লাউসহ নানা সবজি। পরিবারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি, উৎপাদিত সবজি বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয়ও করছেন তারা।

আরও পড়ুন:

শ্যামনগরের অধিকাংশ জমি লবণাক্ততাপ্রবণ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, খরা ও সুপেয় পানির সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এমন বাস্তবতায় বসতভিটায় সবজি চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে সহযোগিতা করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও কৃষি বিভাগ। এসব এলাকায় ফসল উৎপাদন বাড়াতে লবণসহিষ্ণু জাতের ফসল, উন্নত চাষাবাদ কৌশল ও পানি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

লিডার্স নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মণ্ডল বলেন, ‘কৃষকদেরকে সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। তারা জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব অনিয়মিত বৃষ্টিপাত লবণাক্ততা বন্যা এবং খরা এই সহনশীল জাত চাষ করতে পারে। টেকনোলজি গুলোকে উপযোগী করার জন্য আমরা কাজ করছি এবং ব্যাপক মানুষের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এবং মানুষের ভেতরে একটা সাড়া পড়েছে।’

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ‘জৈব সার, অন্যান্য সার যেগুলো লবণের মাত্রা কমায় সে সমস্ত সার ব্যবহার করে এখানে সবজি চাষাবাদ হচ্ছে। আমরা আরও কিছু প্রযুক্তি যেমন বস্তা পদ্ধতি, টাওয়ার পদ্ধতি এ সমস্ত ব্যবহার করে সবজি চাষাবাদের জন্য কৃষকদের আমরা উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছি।’

উপকূলের প্রতিকূল পরিবেশে নারীদের এই উদ্যোগ তৈরি করছে কৃষির নতুন সম্ভাবনা। সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে লবণাক্ত উপকূলেও বাড়তে পারে নিরাপদ সবজি উৎপাদন।

এফএস