কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, বাহরাইন ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথভাবে পেশ করা এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক জলপথ ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল রক্ষা, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং নাবিকদের নিরাপত্তা দেয়া। একই সঙ্গে এই প্রস্তাবে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলা বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।
কাতার, সৌদি আরব ও কুয়েত এই প্রস্তাবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইনের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। এছাড়া ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, কেনিয়া, আর্জেন্টিনা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অধিকাংশ দেশ এতে স্বাক্ষর করেছে। জাতিসংঘে আল জাজিরার প্রতিনিধি গ্যাব্রিয়েল এলিজোন্দো জানান, ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই এই প্রস্তাবের সহ-পৃষ্ঠপোষক।
এর আগে বাহরাইনের আনা একই ধরনের একটি প্রস্তাবে গত মাসে ভেটো দিয়েছিল চীন ও রাশিয়া। নতুন এই খসড়া প্রস্তাব নিয়েও দেশ দুটির আপত্তি রয়েছে। তবে এবার ভোটাভুটির সময় তারা পুনরায় ভেটো দেবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা বর্তমানে স্থবির হয়ে আছে। ওয়াশিংটন দাবি করছে, ইরানকে অবশ্যই তাদের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে এবং প্রণালিতে সব ধরনের কড়াকড়ি তুলে নিতে হবে। বিপরীতে ইরান যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, বন্দর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি চায়, যা যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র শান্তির বদলে আত্মসমর্পণ চায়। অন্যদিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান সতর্ক করে বলেছেন, এই প্রণালিকে যেন যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা না হয়। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জাসিম আল থানিও যুদ্ধের ভয়াবহতা নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এবং শান্তি ফেরাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার আহ্বান জানিয়েছেন।





