প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের পক্ষে লেখা ওই চিঠিতে জানানো হয়, গত নভেম্বর থেকে একটানা ২৮৬ দিন সমুদ্রে অবস্থানকালে রণতরীটির নাবিকসহ স্ট্রাইক গ্রুপের অন্তত আটজন সদস্য আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এর মধ্যে আগস্টের শুরুতে এক সেনাসদস্য সমুদ্রের জলে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান, পরে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। দীর্ঘ ও কঠিন এই অভিযানে মাঝসমুদ্রে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি এবং তীব্র মানসিক চাপের খবর সামনে আসার পর এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করল মার্কিন নৌবাহিনী।
পারস্য উপসাগরে অতিরিক্ত ৯ মাস যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে থাকায় রণতরীটিতে চরম পানীয় জল ও খাবার সংকট তৈরি হয়। বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার দূরের দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপ থেকে রসদ পাঠাতে বাধ্য হয় ওয়াশিংটন। ফলে জাহাজে খাবারের পদ কমানোর পাশাপাশি ব্যবহারযোগ্য পানির লাইন ও টয়লেট ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে পড়েছিল বলে গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশ পায়। এসব কারণে সেনাসদস্যদের মধ্যে চরম মানসিক অবসাদ ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ রণতরীতে নিম্নমানের জীবনযাত্রা ও আত্মহত্যার চেষ্টার খবরকে সিএনএনের ‘ভুয়া খবর’ বা ‘ফেক নিউজ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত প্রধানের এই সত্য স্বীকারের পর মার্কিন রাজনীতিতে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ডেমোক্রেটিক সেনেটর কার্স্টেন জিলিব্র্যান্ড ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ সেনাসদস্যদের বাস্তব দুর্দশাকে অসম্মান করেছিলেন। বোমার পেছনে কোটি কোটি ডলার খরচ করা হলেও দেশের সেনাদের জীবনের প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন অসংবেদনশীল আচরণ করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।





