নোবেল শান্তি পুরস্কার ২০২৬: ট্রাম্প-জেলেনস্কি নন, কেন জোর দাবিদার অন্যরা

ডোনাল্ড ট্রাম্প, নোবেল পুরস্কার
বিদেশে এখন
0

নোবেল শান্তি পুরস্কারের দৌড়ে বাজির বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এগিয়ে থাকলেও তারা এই পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য নন। বরং পর্দার আড়ালে থেকে যারা বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছেন, তারাই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার প্রকৃত দাবিদার। এমনটাই মনে করেন অসলোর পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত ডিরেক্টর হাকোন জারলো। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

নোবেল শান্তি পুরস্কার কোনো তারকা খ্যাতির প্রতিযোগিতা নয়। অথচ বিশ্ব রাজনীতির বড় বড় নামগুলোই বাজির বাজারে সব সময় এগিয়ে থাকে। তবে হাকোন জারলোর মতে, এর মাধ্যমে নোবেল পুরস্কারের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। শান্তি প্রতিষ্ঠার আসল কাজগুলো প্রচারের আলোর বাইরে থেকে করা হয়। আন্তর্জাতিক আইন টিকিয়ে রাখা আদালত, যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ সংগ্রহকারী সাংবাদিক এবং সাধারণ মানুষকে রক্ষায় নিয়োজিত মানবাধিকার সংস্থাগুলোই এর প্রকৃত দাবিদার। আগামী ৯ অক্টোবর ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা করা হবে।

বাজির বাজারে ডোনাল্ড ট্রাম্প এগিয়ে থাকলেও তিনি এই পুরস্কার পাবেন না। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত কোনো দেশের দায়িত্বরত প্রেসিডেন্ট নোবেল শান্তি পুরস্কারের প্রার্থী হতে পারেন না। অন্যান্য ক্ষেত্রে ট্রাম্পের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা যতই থাকুক না কেন, নোবেল কমিটি একজন প্রার্থীর সামগ্রিক অবদান বিবেচনা করবে। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ওঠা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগও এখানে অন্যতম ভূমিকা রাখবে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নোবেল পাওয়ার সম্ভাবনাও কম। একটি বড় যুদ্ধে লিপ্ত দেশের সেনাপ্রধান বা কমান্ডার-ইন-চিফকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দিলে তা পক্ষপাতের শামিল হবে। এটি আলফ্রেড নোবেলের উইলের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক, যেখানে দেশগুলোর মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়ানো এবং সেনাবাহিনী কমানোর কথা বলা হয়েছিল।

বাজির বাজার বা পলিমার্কেটের তথ্য অনুযায়ী, সেভ দ্য চিলড্রেন, সুদানের ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) যৌথভাবে ২৮ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে রয়েছে। তবে এদের বাইরেও আরও অনেকে আছেন যারা এই পুরস্কার পাওয়ার দাবিদার।

হাকোন জারলো বলেন, বর্তমানে বিশ্বে যুদ্ধের ভয়াবহতা বেড়ে চলায় নোবেল শান্তি পুরস্কারের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালে বিশ্বে ৬৫টি রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র সংঘাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা ১৯৪৬ সালের পর সর্বোচ্চ।

এই বছর জারলোর পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক আইনের শাসন শক্তিশালী করতে এবং শক্তিশালী দেশগুলোর ওপরও যে এই আইন প্রযোজ্য, তা প্রমাণে এই দুটি আদালতকে যৌথভাবে নোবেল দেয়া উচিত। বিশেষ করে যখন মার্কিন প্রশাসন আইসিসি কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে, তখন এই পুরস্কার আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরবে।

যুদ্ধাপরাধের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকেরা চরম ঝুঁকিতে কাজ করেন। কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসের (সিপিজে) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে রেকর্ড ১৩২ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, যার দুই-তৃতীয়াংশই মারা গেছেন ইসরাইলের হামলায়। সিপিজে-কে এই পুরস্কার দেয়া হলে তা হবে অত্যন্ত যুগোপযোগী।

এছাড়া যুদ্ধবিধ্বস্ত শিশুদের রক্ষায় নিয়োজিত সেভ দ্য চিলড্রেন এবং রাশিয়া ও অধিকৃত অঞ্চল থেকে ১ হাজার ৭০০-র বেশি শিশুকে ফিরিয়ে আনা মাইকোলাইলা কুলেবার নেতৃত্বাধীন সেভ ইউক্রেন প্রশংসার দাবিদার। সুদানের গৃহযুদ্ধের মধ্যে খাবার ও চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাওয়া ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমসও নোবেলের যোগ্য।

অন্যদিকে ভূরাজনৈতিক বৈরিতা সত্ত্বেও গত ২৫ বছর ধরে পিসফুল বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা বজায় রাখা ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন (আইএসএস) নোবেল শান্তি পুরস্কারের একটি বড় দাবিদার হতে পারে।

এএম