সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যানের পর মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসমর্থন বর্তমানে সর্বনিম্ন। যার মূলে রয়েছে অভিবাসন আইন, বাণিজ্য বিরোধ, ফেডারেল কর্মী ছাঁটাই, ইরান যুদ্ধসহ ট্রাম্প প্রশাসনের বেশ কিছু বিতর্কিত পদক্ষেপ। এ কারণেই প্রশ্ন উঠছে— সত্যিই কি তবে এবার ট্রাম্প যুগের অবসান হচ্ছে?
জনমত জরিপ ছাড়াও অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্প যুগের অবসান ঘটাতে পারে। নির্বাচনে বড় পরাজয়ের সম্মুখীন হতে চলেছে রিপাবলিকানরা। বিপরীতে ডেমোক্র্যাটরা ১১ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জিতবে। বলা হচ্ছে, বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার সঙ্গে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের কংগ্রেসের আধিপত্য অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে আনবে বড় পরিবর্তন।
নিজের দুই মেয়াদে ট্রাম্প এরই মধ্যে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি ত্যাগ, সুপ্রিম কোর্টে বিতর্কিত নিয়োগ, সামরিক বাহিনীর ডিইআই কর্মসূচী বাতিলের মতো কিছু নীতি প্রণয়ন করেছেন, যা প্রায় অপরিবর্তনীয়। প্রায় অসম্ভব দ্বিদলীয় ঐকমত্যের মাধ্যমেই কেবল সেগুলো বাতিল সম্ভব।
নির্বাচনে জিততে ট্রাম্প শ্বেতাঙ্গ ইভাঞ্জেলিক্যাল খ্রিস্টান থেকে শুরু করে শ্রমজীবী ল্যাটিনো, সিলিকন ভ্যালির ধনকুবের সবাইকে নিজ জোটে টেনেছেন। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এসব সাফল্যসহ দীর্ঘ সময় ট্রাম্পের ক্ষমতার টিকে যাওয়া বিরোধীদলকে কিছুটা কোনঠাসা করেছে। আর এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সেই পরিস্থিতিকেই ফের চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে ডেমোক্র্যাট দল।
আরও পড়ুন:
১৯৪৬-২০২২ সালের মধ্যে ২০ মধ্যবর্তী নির্বাচনের ১৮টিতেই ভোটাররা হোয়াইট হাউস নিয়ন্ত্রণকারী দলের কাছ থেকে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রন ছিনিয়ে নেয়। কেবল ১৯৯৮ সালে বিল ক্লিনটনের ডেমোক্র্যাট দল এবং ২০০২ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশের রিপাবলিকান দল এ ধারার ব্যতিক্রম ছিলো। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা এ পরিস্থিতিকে ‘প্রেসিডেন্টের শাস্তি’ বা ‘মধ্যবর্তী নির্বাচনের শাস্তি’ বলেন।
তত্ত্বমতে, ক্ষমতায় থাকার কারণেই আসন হারাতে থাকে প্রেসিডেন্টের দল। ভোটাররা মধ্যবর্তী নির্বাচনকে হোয়াইট হাউসে লাগাম টানার উপায় হিসেবেই ব্যবহার করে।
১৯৪৬ সালের পর থেকে ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্টরা মধ্যবর্তী নির্বাচনে সবচেয়ে বড় পরাজয়ের সম্মুখীন হন। ২০১০ সালে সবচেয়ে বড় পরাজয় দেখেন বারাক ওবামা। সেবার ডেমোক্র্যাটরা হাউসের ৬৪ আসন হারালে রিপাবলিকানরা কক্ষটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। এছাড়া ট্রুম্যানের অধীনেও ১৯৪৬ সালে ৫৬ আসন এবং ১৯৯৪ সালে ক্লিনটনের অধীনে ৫৪ আসন হারিয়ে ডেমোক্র্যাটরা হাউসের নিয়ন্ত্রণ হারায়।
পক্ষান্তরে, রিপাবলিকানদের সবচেয়ে বড় পরাজয় এসেছিলো ডোয়াইট ডি আইজেনহাওয়ারের আমলে। ১৯৫৮ সালে মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলটি ৫০ আসন হারায়। ১৯৭৪ সালে জেরাল্ড ফোর্ডের আমলে ৪৮ আসন হারায়।
এছাড়া, ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা ৪২টি আসন হারিয়ে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারায়।





