অন্যের সঙ্গে নীরব সঙ্গ দিয়ে আয় করেন জাপানি তরুণ

টোকিওর এক ক্যাফেতে এক গ্রাহকের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন ভাড়া করা সঙ্গী শোজি মরিমোতো
বিদেশে এখন
0

কিছুই না করে শুধুই সঙ্গ দেয়া এমন এক অভিনব পেশায় নিযুক্ত হয়েছেন জাপানের টোকিওর বাসিন্দা ৩৮ বছর বয়সী শোজি মোরিমোতো। ক্লায়েন্ট বা গ্রাহকদের কাছে গিয়ে নীরব সঙ্গী হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য তিনি প্রতি সেশনে নেন ১০ হাজার ইয়েন (প্রায় ৭১ ডলার)। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত চার বছরে প্রায় চার হাজার গ্রাহককে এ ধরনের সেবা দিয়েছেন মোরিমোতো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) তার অনুসারী প্রায় আড়াই লাখ, যার মাধ্যমেই মূলত গ্রাহকেরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার গ্রাহকদের প্রায় ২৫ শতাংশই নিয়মিত সেবা নেন। এমনকি একজন গ্রাহক তাকে সর্বমোট ২৭০ বার ভাড়া করেছেন।

মোরিমোতো জানান, তার মূল কাজ হলো গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্থানে উপস্থিত থাকা এবং আলাদা কোনো কাজ না করা। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, একবার এক গ্রাহকের অনুরোধে তার সঙ্গে পার্কে গিয়ে দোলনায় চড়েছেন, আবার আরেকজনের আবদারে ট্রেনে ভ্রমণকালে জানালার ওপাশ থেকে হাত নেড়ে বিদায় জানিয়েছেন।

তবে সব ধরনের অনুরোধ তিনি গ্রহণ করেন না। ভারী ফ্রিজ সরিয়ে দেয়া, কম্বোডিয়া ভ্রমণে যাওয়া কিংবা কোনো ধরনের যৌন চাহিদাসংক্রান্ত প্রস্তাব তিনি সরাসরি নাকচ করে দেন।

সম্প্রতি শাড়ি পরে বাইরে বের হতে চাওয়া ২৭ বছর বয়সী তথ্য বিশ্লেষক আরুনা চিদা মোরিমোতোকে সঙ্গী হিসেবে ভাড়া করেন। বন্ধুদের সামনে ভারতীয় এ পোশাক পরে যেতে দ্বিধাবোধ হওয়ায় তিনি মোরিমোতোর সাহায্য নেন। এ অভিজ্ঞতা জানিয়ে চিদা বলেন, ‘বন্ধুদের সঙ্গে থাকলে আড্ডা দেয়া বা তাদের আনন্দ দেয়ার একটা চাপ থাকে, কিন্তু ভাড়া করা এই সঙ্গীর সামনে বেশি কথা বলার কোনো প্রয়োজন অনুভব হয় না।’

মোরিমোতো আগে একটি প্রকাশনা সংস্থায় চাকরি করতেন। সেখানে কোনো কাজ না করার জন্য প্রায়ই তাকে কথা শুনতে হতো। সেখান থেকেই তিনি ভাবেন, কাজ না করার এই চর্চাকেই যদি সেবায় রূপ দেয়া যায়। বর্তমানে এটিই তার আয়ের একমাত্র উৎস, যা দিয়ে তিনি স্ত্রী ও সন্তানের সংসার চালান। মহামারি করোনার আগে দিনে তিন থেকে চারজন গ্রাহকের সঙ্গে দেখা করলেও বর্তমানে তিনি দিনে এক থেকে দুজনকে সময় দেন।

উৎপাদনশীলতাকে প্রাধান্য দেয়া সমাজব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মোরিমোতো বলেন, ‘মানুষ মনে করে আমার কিছু না করাটা অন্যের জন্য দরকারী বলেই এর মূল্য আছে। কিন্তু আসলে সত্যিই কিছু না করলেও চলে। মানুষকে সব সময় কোনো না কোনো নির্দিষ্ট উপায়ে দরকারী হতেই হবে, এমন কোনো কথা নেই।’

এএম