৭৮ বছর বয়সী এ গবেষক দ্য গার্ডিয়ানকে জানান, আগামী এক দশকের মধ্যে বোঝা যাবে মানবজাতি এ প্রযুক্তির ঝুঁকি সামলে চরম সমৃদ্ধির দিকে যাবে, নাকি চরম বৈষম্য, বেকারত্ব ও সামাজিক অবক্ষয়ের মুখে পড়বে।
২০২৩ সালে এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে মুক্তভাবে কথা বলতে গুগল ছাড়েন হিন্টন। একটি নতুন পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্রের প্রিমিয়ারের আগে তিনি বলেন, ‘আমার অর্জিত মর্যাদা ও খ্যাতিকে এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে পুরোপুরি কাজে লাগানোকে আমি দায়িত্ব মনে করি।’
ওপেনএআই, মেটা ও টেসলার মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর দৌড়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে হিন্টন বলেন, স্যাম অল্টম্যান, মার্ক জাকারবার্গ কিংবা ইলন মাস্কের মতো প্রযুক্তি প্রধানেরা ঝুঁকি বোঝেন কিন্তু গ্রাহ্য করেন না। মুনাফাই তাদের কাছে প্রধান। ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানকে তিনি ‘একেবারেই বিশ্বাস করেন না’ বলে স্পষ্ট জানান।
সম্প্রতি ওপেনএআই-এর এআই এজেন্টদের নিজেদের মধ্যে যোগসাজশ করে অন্য একটি ওয়েবসাইট হ্যাক করার ঘটনাকে ১৯৭৯ সালের থ্রি মাইল আইল্যান্ড পারমাণবিক দুর্ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেন হিন্টন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘চলতি বছর বা আগামী বছর আমরা এআই খাতের চেরনোবিল দেখতে পারি। এটি হতে পারে পুরো বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা অচল হয়ে যাওয়া কিংবা এক সপ্তাহের জন্য আর্থিক খাত থমকে যাওয়া।’
প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর স্ব-নিয়ন্ত্রণের মার্কিন নীতি এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক নিয়মনীতি প্রত্যাখ্যানের অবস্থানের সমালোচনা করেন হিন্টন। তিনি সীমান্ত অতিক্রমকারী শক্তিশালী এআই মডেলগুলোর বাধ্যতামূলক পরীক্ষা, স্বাধীন মূল্যায়ন ও আন্তসরকার সাধারণ মানদণ্ড নির্ধারণের আহ্বান জানান।





