ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভির বরাতে জানা যায়, বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন বন্ধে রাশিয়ার সমর্থনের পাশাপাশি যুদ্ধপরবর্তী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গুরুত্ব পেয়েছে। এছাড়া রাশিয়া থেকে ইরান হয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে গ্যাস সরবরাহের জন্য পাইপলাইন নির্মাণের মতো জ্বালানি খাত সংক্রান্ত নানা বিষয়েও কথা হয়েছে।
রেজায়ি জানান, মুজতবা খামেনির নির্দেশেই তিনি এই বিশেষ বার্তা যত দ্রুত সম্ভব পুতিনের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। প্রায় এক মাস আগে এই মস্কো সফরের পরিকল্পনা করা হলেও আঞ্চলিক সামরিক পরিস্থিতির জটিলতার কারণে তা পিছিয়ে গিয়েছিল। তবে চিঠিতে সুনির্দিষ্ট কী বার্তা ছিল, তা প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে এক বিবৃতিতে খামেনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে নতিস্বীকারের কোনো সুযোগ নেই এবং ইরানকে পূর্ণ সামরিক সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।
কাতারের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক তৎপরতা যখন জোরদার হচ্ছে, ঠিক তখনই মস্কোয় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর কূটনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। রেজায়ি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তেহরানের দেয়া সাতটি শর্ত ওয়াশিংটন পূরণ না করা পর্যন্ত তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসবেন না এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালিও খুলবেন না।
বৈঠকে রেজায়ি রুশ প্রেসিডেন্টকে ইরান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সমন্বয়ে তেহরানে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক আঞ্চলিক বৈঠকের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেন, যা পুতিন স্বাগত জানিয়েছেন। পাশাপাশি ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি কুয়েত, সৌদি আরব, ওমান, কাতার, তুরস্ক ও জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে টেলিফোনে আঞ্চলিক শান্তি নিয়ে আলোচনা করেছেন। উল্লেখ্য, মস্কো ও তেহরানের মধ্যকার কৌশলগত সম্পর্কের অংশ হিসেবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর রাশিয়া থেকে সুখোই সু-৩৫ যুদ্ধবিমান পাওয়ার প্রত্যাশা করছে ইরান।





