স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন রোধ করা না গেলে প্রতাপনগর ও পার্শ্ববর্তী আনুলিয়া ইউনিয়নের ১০ থেকে ১২টি গ্রাম প্লাবিত হতে পারে। পানিতে তলিয়ে যেতে পারে বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও হাজার হাজার মৎস্যঘের।
ভাঙনস্থলটি কুড়িকাহুনিয়া লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশে। বেড়িবাঁধের পাশাপাশি ওয়াবদা সড়কের একটি অংশও ধসে পড়ায় ওই পথে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
ভাঙন দেখা দেয়ার পর সকাল থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে স্বেচ্ছাশ্রমে প্রতিরোধকাজ শুরু করেন। বালি ও মাটি ফেলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ রক্ষার চেষ্টা করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল খালেক বলেন, ‘সারা বছর আমাদের নদীর সঙ্গে যুদ্ধ করে বাঁচতে হয়। সবসময় ভয় থাকে কখন ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়ে যায়। সবে এলাকায় গাছপালা ও ফসল হচ্ছে। আবার প্লাবিত হলে সব শেষ হয়ে যাবে। হাজার হাজার মৎস্যঘের পানিতে ভেসে যাবে।’
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘সকাল থেকে স্থানীয় জনগণকে নিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভাঙন মোকাবিলায় কাজ করছি। দ্রুত বালি ভরাট করে ভাঙনস্থল মেরামত করা না গেলে ভাঙন আরও বিস্তৃত হয়ে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।’
পাউবোর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘ভাঙনের পরই সাধারণত পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ শুরু করে। আগে থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয় না। যে জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে, তার সামনেই খাল। বেড়িবাঁধ পুরোপুরি ভেঙে গেলে প্রতাপনগরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাও প্লাবিত হতে পারে।’
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুণ্ডু বলেন, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা দ্রুত কাজ শুরু করবে।’
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য রওনা হয়েছি। আনুমানিক ৫০ মিটারের মতো বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। খুব দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।’
এদিকে স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রমে ভাঙন ঠেকানোর কাজ অব্যাহত রয়েছে। তবে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়া হলে ভাঙন আরও বিস্তৃত হয়ে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।





