মার্কিন বাহিনীর পিছু হটার দাবি ইরানের, বাড়ছে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ

হরমুজ প্রণালিতে চলাচল করছে একটি জাহাজ
বিদেশে এখন
0

কৌশলগত হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় মার্কিন নৌযান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে সফলতার দাবি করেছে তেহরান। এতে বাধ্য হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রণতরিগুলো ইরানি উপকূল থেকে আরও দূরে সরে গেছে বলে জানিয়েছে দেশটি। তবে এমন চরম উত্তেজনার মধ্যেও কৌশলগত এই প্রণালি দিয়ে তেলের সরবরাহ আগের চেয়ে বেড়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, গত ১৪ সেপ্টেম্বর হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আট মার্কিন মেরিন সেনা আহত হন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৮৬১ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত এবং অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে এক বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি বলেন, বীর যোদ্ধা ও হরমুজ প্রণালির রক্ষকদের কাছে জোরালো আঘাত পেয়ে মার্কিন বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের উপকূলীয় চাবাহার ও ওমান উপসাগরের প্রবেশমুখ থেকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো এখন পিছু হটে আরব সাগরের মধ্যাঞ্চলের দিকে অবস্থান নিয়েছে।

তবে তেহরানের এই সামরিক তৎপরতার মধ্যেও জলপথটি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে গতি এসেছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানান, বর্তমানে এই জলপথ দিয়ে দৈনিক ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল পরিবাহিত হচ্ছে, যা যুদ্ধপূর্ব সময়ের কাছাকাছি। আন্তর্জাতিক তেল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের মতে, সেপ্টেম্বর মাসে এ রুট দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১ কোটি ২৮ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি হয়েছে।

বিশ্লেষকেরা জানান, মার্কিন নৌবাহিনীর নিরাপত্তায় ওমান উপকূলের নিচু এলাকা দিয়ে ছোট ও পুরোনো জাহাজে তেল পরিবহন করে পরে তা সাগরে বড় ট্যাংকারে স্থানান্তরের ‘শাটল পদ্ধতি’ ব্যবহার করছে উপসাগরীয় দেশগুলো। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেয়া সাত দিনের শান্তিপরিকল্পনা নাকচ করে দিলেও সংঘাত কমাতে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো এখনও তাদের কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রেখেছে।

এএম